গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে এমন কিছু উচ্চতাপীয় ও তাপ-চাপ সৃষ্টিকারী বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যার প্রভাবে প্রায় তিন হাজার ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি—এমন দাবি উঠে এসেছে আল জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অস্ত্রের তাপমাত্রা ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২ হাজার ৮৪২ জনের দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকর্মীরা হামলার স্থানে পরিবারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা যাচাই করেন। যদি বলা হয় পাঁচজন ছিলেন, কিন্তু তিনটি মরদেহ উদ্ধার হয়, আর দীর্ঘ অনুসন্ধানে কেবল রক্তের দাগ বা ক্ষুদ্র টিস্যু পাওয়া যায়—তবে বাকি দুজনকে ‘বাষ্পীভূত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাপ-চাপ সৃষ্টিকারী বা তথাকথিত ভ্যাকুয়াম বোমা বিস্ফোরণের আগে জ্বালানির মেঘ ছড়িয়ে পরে তা প্রজ্বালিত হয়। এতে সৃষ্টি হয় বিশাল আগুনের গোলা ও চাপ তরঙ্গ। অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও টাইটানিয়ামের গুঁড়া মিশ্রিত বিস্ফোরক ব্যবহারে তাপমাত্রা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায় বলে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য। মানবদেহের অধিকাংশ অংশ পানি হওয়ায় এমন তাপে তা দ্রুত বাষ্পে পরিণত হতে পারে বলে চিকিৎসকদের মত।
অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত কয়েকটি অস্ত্রের নামও এসেছে। এমকে-৮৪ নামে ৯০০ কেজি ওজনের বোমা, ব্লু-১০৯ বাঙ্কার বাস্টার এবং জিবিইউ-৩৯ প্রিসিশন গ্লাইড বোমার উল্লেখ করা হয়েছে। দাবি করা হয়, এসব বোমার বিস্ফোরণে ভবনের কাঠামো আংশিক অক্ষত থাকলেও ভেতরে থাকা মানুষ মারাত্মক তাপ ও চাপের মুখে দগ্ধ বা নিশ্চিহ্ন হন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অস্ত্র যদি নির্বিচারে ব্যবহার করা হয় এবং যোদ্ধা ও বেসামরিকের মধ্যে পার্থক্য না করে, তবে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোরও জবাবদিহির প্রশ্ন উঠছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গাজা নিয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দিলেও এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল বরাবরই বেসামরিক হতাহতের দায় অস্বীকার করে এবং বলে, তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করে।
গাজার অনেক পরিবারের কাছে এসব বিতর্কের চেয়ে বড় বাস্তবতা হলো—নিখোঁজ স্বজনদের কবর দেওয়ার মতো দেহাবশেষও তারা খুঁজে পাচ্ছেন না।
















