শীতকালীন অলিম্পিক গেমস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর ইতালির রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় একাধিক সন্দেহজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব ঘটনায় রেলপথে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং এটিকে তারা গুরুতর নাশকতা হিসেবে দেখছে।
ইতালির পুলিশ জানিয়েছে, অলিম্পিক গেমসকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের রেল নেটওয়ার্কে অন্তত তিনটি আলাদা ঘটনার তদন্ত চলছে। তাদের ধারণা, ঘটনাগুলোর সঙ্গে গেমসের সময়সূচির সরাসরি যোগসূত্র থাকতে পারে।
এর মধ্যে বোলোনিয়া ও ভেনিসের মধ্যবর্তী রেল অবকাঠামোয় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে, যার ফলে ট্রেন চলাচলে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হয়। পরে একই অঞ্চলে রেললাইনের পাশে কাটা বৈদ্যুতিক কেবল ও একটি প্রাথমিক ধরনের বিস্ফোরক ডিভাইস উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আদ্রিয়াটিক উপকূলের পেসারো এলাকায় একটি রেল সুইচে আগুন দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা পর বোলোনিয়ার কাছাকাছি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং সেখানে একটি বিস্ফোরক বসানো ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বোলোনিয়ার রেলস্টেশন উত্তর ও দক্ষিণ ইতালির পাশাপাশি পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র। এসব ঘটনার কারণে এই কেন্দ্র হয়ে চলাচলকারী উচ্চগতির ট্রেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়, যদিও পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পরিবহনমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি এসব ঘটনাকে “অভূতপূর্ব মাত্রার গুরুতর নাশকতা” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতালির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারবে না। তাঁর মতে, অলিম্পিক গেমস বিশ্ববাসীর কাছে ইতালির ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।
সালভিনি দাবি করেন, সময় ও পদ্ধতির দিক থেকে এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে প্যারিস অলিম্পিকের সময় ফ্রান্সের উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কে চালানো নাশকতার মিল রয়েছে। সে সময়ও গুরুত্বপূর্ণ রেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, এখনো কেউ এসব ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। তদন্ত চলছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় মিলানে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ইতালির কর্টিনা এবং আরও দুটি স্থানে আয়োজন চলছে। মিলান ও কর্টিনা—দুটো শহরই ভেনিস হয়ে রেলপথে সংযুক্ত।
গেমসের বিভিন্ন ইভেন্ট উত্তর ইতালির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আল্পস ও ডোলোমাইট পর্বতমালার এলাকাগুলো। এই প্রেক্ষাপটে রেলপথে নাশকতার অভিযোগ নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
















