হাভানা—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ কূটনীতিক। তবে এখনো তা আনুষ্ঠানিক সংলাপে রূপ নেয়নি। এ অবস্থায় কিউবার বিরুদ্ধে চাপ আরও বাড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিশেষ করে তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকির মাধ্যমে।
কিউবার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ দে কসিও সোমবার বার্তা সংস্থাকে বলেন, ওয়াশিংটন জানে যে হাভানা একটি দায়িত্বশীল, অর্থবহ ও গম্ভীর সংলাপে বসতে প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, সংবিধান, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা কিউবার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
দে কসিও জানান, দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান–প্রদান ও কূটনৈতিক যোগাযোগ থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার টেবিল গড়ে ওঠেনি। তাঁর ভাষায়, বার্তা বিনিময় হয়েছে, দূতাবাস রয়েছে, যোগাযোগও হয়েছে, কিন্তু একে পূর্ণাঙ্গ সংলাপ বলা যায় না।
অন্য এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি সংলাপ শুরু করা যায়, তবে সেটি ভবিষ্যতে আলোচনার পথে যেতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিউবার রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রশ্ন আলোচনার বাইরে থাকবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনা। ভেনেজুয়েলা কিউবার দীর্ঘদিনের মিত্র।
রোববার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, কিউবার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা শুরু করেছে এবং তিনি মনে করেন, শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতা হতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ব্যতিক্রমী হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, কোনো দেশ কিউবাকে তেল সরবরাহ করলে তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, মেক্সিকো কিউবায় তেল পাঠানো বন্ধ করতে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে কিউবার জ্বালানি চাহিদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও মেক্সিকো এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
মেক্সিকো বর্তমানে কিউবার সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী। মানবিক কারণে তেল সরবরাহ চালু রাখার কথা বারবার জানিয়েছে দেশটি। তবে একই সঙ্গে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় সব ধরনের তেল প্রবাহ বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা তেলও রয়েছে। এর ফলে কিউবায় জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, রাজধানী হাভানাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে।
তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দে কসিও বলেন, এই নীতি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতিকর হবে। তাঁর প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র কি দীর্ঘদিন ধরে সারা বিশ্বকে কিউবায় জ্বালানি না দিতে বাধ্য করতে পারবে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে কিউবা। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তি চাপ পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
















