লন্ডন—যুক্তরাজ্যের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের অভিযোগ পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির পুলিশ। প্রয়াত অর্থলগ্নিকারী ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের কাছে গোপন সরকারি তথ্য ফাঁসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত তদন্ত নথিতে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী থাকাকালে ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের সঙ্গে সরকারের গোপন পরিকল্পনা ভাগাভাগি করেছিলেন। এসব তথ্য সামনে আসার পর একাধিক অভিযোগ পুলিশের কাছে জমা পড়েছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রাপ্ত সব অভিযোগ পর্যালোচনা করে দেখা হবে সেগুলো ফৌজদারি তদন্তের মানদণ্ড পূরণ করে কি না। নতুন ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সামনে এলে সেগুলোর ভিত্তিতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের বিবৃতিতে ম্যান্ডেলসনের নাম উল্লেখ না করা হলেও স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর আহ্বান জানানোর পরই এই ঘোষণা আসে।
এর আগে সোমবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে একটি তদন্তের ঘোষণা দেন। স্টারমার জানান, এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর গত বছর ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কূটনীতিকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ম্যান্ডেলসনের আর পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে আজীবন সদস্য পদে থাকা উচিত নয়।
রোববার ম্যান্ডেলসন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি থেকেও পদত্যাগ করেন। নব্বইয়ের দশকে দলটির রাজনৈতিক পুনরুত্থানে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি সহকর্মীদের জন্য বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করতে না চাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যে এই ঘটনায় আরও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনের প্রতিষ্ঠিত একটি দাতব্য সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে, তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম বন্ধ করছে। এপস্টেইনের সঙ্গে ফার্গুসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, এপস্টেইন–সংক্রান্ত হাজারো নথি ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক নথি প্রকাশের সময় যথাযথভাবে তথ্য গোপন না করায় ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়েছিল।
এপস্টেইন কাণ্ড ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে যে বিতর্ক চলছে, ম্যান্ডেলসন–সংক্রান্ত নতুন এই তদন্ত তা আরও জটিল করে তুলেছে।
















