নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসলামিক স্টেটের হামলা প্রতিহত করতে রুশ সেনারা সহায়তা করেছে বলে নিশ্চিত করেছে রাশিয়া। সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা কর্পস এবং নাইজারের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় ওই হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীর বিমানবন্দরে চালানো সাম্প্রতিক এই উগ্রপন্থী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে মস্কো। নাইজারের সামরিক সরকার আগেই জানিয়েছিল, রাজধানীতে বিরল এই হামলা প্রতিহতে তাদের রুশ অংশীদাররা সহায়তা করেছে। ওই ঘটনায় অন্তত ২০ জন হামলাকারী নিহত হয়, যাদের মধ্যে একজন ফরাসি নাগরিকও ছিল। এ ছাড়া চারজন সেনা আহত হন এবং অন্তত ১১ জনকে আটক করা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মালির রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একই ধরনের হামলা হয়েছিল। সে সময় পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ওইসব ঘটনায় বাহ্যিক শক্তি প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছিল।
নাইজারের সামরিক প্রধান আবদুররহমান তচিয়ানি নিয়ামেতে অবস্থিত রুশ সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করে বিমানবন্দর রক্ষায় রুশ বাহিনীর পেশাদারত্বের জন্য ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞতা জানান বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৮ জানুয়ারি রাতে নিয়ামেতে দিয়োরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত বিমানঘাঁটিতে আকস্মিক ও সমন্বিত হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট। সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে বেশ কয়েকজন হামলাকারী একটি বিমান হ্যাঙ্গারের কাছে গুলি ছোড়ে এবং একটি উড়োজাহাজে আগুন লাগিয়ে মোটরসাইকেলে করে সরে যায়।
জার্মানির কনরাড আডেনাউয়ার ফাউন্ডেশনের সাহেল কর্মসূচির প্রধান উলফ ল্যাসিং বার্তা সংস্থাকে বলেন, হামলার ধরন ও সাহসিকতা দেখে ধারণা করা যায়, হামলাকারীরা ভেতরের কোনো সহায়তা পেয়ে থাকতে পারে। এমনকি তারা ড্রোন ব্যবহার করেছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তার মতে, আগের সফল হামলাগুলো উগ্রপন্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং সে কারণেই তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করছে।
নাইজারের সামরিক কর্তৃপক্ষ শুরুতে বেনিন, ফ্রান্স ও আইভরি কোস্টকে হামলার পেছনে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করলেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি। আইভরি কোস্ট অভিযোগ অস্বীকার করে নাইজারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং বেনিন এ দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে। ফ্রান্স এখনো এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ নাইজারে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ফরাসি সেনাদের উপস্থিতি ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাহেল অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব বাড়লেও সেখানে তাদের সামরিক তৎপরতা নিয়ে মস্কো সাধারণত প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলে।
ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে হয়ে পড়া রাশিয়া আফ্রিকাজুড়ে নতুন সামরিক ও রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চেষ্টা করছে। নাইজার ছাড়াও বুরকিনা ফাসো, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, নিরক্ষীয় গিনি ও লিবিয়ায় রুশ সেনা বা সামরিক প্রশিক্ষকদের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার আফ্রিকা কর্পস মহাদেশজুড়ে ওয়াগনার বাহিনীর জায়গা নিয়েছে। মস্কোর দাবি, এই বাহিনী সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সহায়তা করছে এবং সাহেল অঞ্চলের স্থিতিশীলতা জোরদার করছে।
নাইজারের কর্তৃপক্ষ গত এক দশক ধরে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট ইসলাম ও মুসলমানদের সহায়তা গোষ্ঠী এবং সাহেলে সক্রিয় ইসলামিক স্টেটের সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
















