মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য উঠে আসার পর স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিরোস্লাভ লাইচাক পদত্যাগ করেছেন।
শনিবার এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ফিকো জানান, তিনি লাইচাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। তিনি লাইচাককে কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে অভিজ্ঞতার এক অনন্য উৎস হিসেবে বর্ণনা করেন।
এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটে এমন এক সময়, যখন মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩০ লাখ নথি প্রকাশ করে। এসব নথিতে সরাসরি কোনো অপরাধের প্রমাণ না মিললেও, এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
২০১৮ সালের অক্টোবরে বিনিময় হওয়া একাধিক বার্তায় দেখা যায়, সে সময় স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা লাইচাক ও এপস্টিন নারীদের প্রসঙ্গ এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাৎ নিয়ে হালকা রসিকতায় মেতে ওঠেন। কথোপকথনে এপস্টিন নারীদের নিয়ে কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং লাইচাক সেগুলোর জবাবে রসিক ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানান।
নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, ২০১৭ সালের এক ইমেইলে লাইচাক এপস্টিনের কাছে এক নারী চলচ্চিত্র প্রযোজকের ছবিকে অস্কার মনোনয়নের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে দেওয়ার বিষয়ে সহায়তা চান।
নথি প্রকাশের পর প্রথমে লাইচাক নারীদের নিয়ে আলোচনার অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে স্লোভাক গণমাধ্যম জানিয়েছে। পরে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ফিকোর জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলে তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ফিকো এই বিতর্ককে তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত এক ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, লাইচাককে ঘিরে সমালোচনায় তিনি ব্যাপক ভণ্ডামি দেখতে পাচ্ছেন।
লাইচাক এর আগে চারটি স্লোভাক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, যার মধ্যে তিনটি সরকারই ফিকোর নেতৃত্বাধীন। তিনি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন এবং সর্বশেষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পশ্চিম বলকান বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এপস্টিন, যিনি ২০১৯ সালে যৌন পাচারের মামলার বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে মারা যান, তাঁর সঙ্গে বিশ্বব্যাপী বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগের তথ্য সাম্প্রতিক নথিতে উঠে এসেছে। এসব তথ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
















