আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি জানিয়েছে, দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদে নারীদের দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই। দলটির দাবি, তাদের সাংগঠনিক কাঠামো ইসলামী নীতির আলোকে পরিচালিত, যেখানে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পুরুষদের জন্য নির্ধারিত।
রোববার ঢাকায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামির নারী বিভাগের সেক্রেটারি নুরুননিসা সিদ্দিকা। তিনি বলেন, দলের আমির বা প্রধানের পদে নারীদের দায়িত্ব দেওয়ার অনুমতি ইসলামী শিক্ষায় নেই বলে জামায়াত মনে করে। কোরআনের নির্দেশনার ব্যাখ্যার ভিত্তিতে পুরুষদের ওপর নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, যা তারা ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেখেন।
তিনি আরও বলেন, এই কারণে জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ইসলামী সংগঠনেই শীর্ষ নেতৃত্বের পদে নারী থাকার সুযোগ নেই। সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের কোনো নারী প্রার্থী না থাকার বিষয়টি দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নুরুননিসা সিদ্দিকা বলেন, কেবল নেতৃত্বের পদে নারী থাকা না থাকা নয়, বরং সমাজে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সে বিষয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, গত পাঁচ দশকের বড় একটি সময় বাংলাদেশ নারী প্রধানমন্ত্রী দ্বারা পরিচালিত হলেও নারীদের বাস্তব সমস্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান হয়নি। তার ভাষায়, নারীর প্রতি সহিংসতা কি কমেছে, নারীর অধিকার কি পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এই প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে।
তার মতে, প্রকৃত পরিবর্তন নির্ভর করে নেতৃত্বের নৈতিকতা ও চরিত্রের ওপর, লিঙ্গের ওপর নয়। জামায়াত প্রতীকী পদায়নের চেয়ে ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেয় বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে জামায়াতের নারী বিভাগের প্রধান হাবিবা চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও ভোটাধিকার প্রয়োগে তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা বাধার মুখে পড়ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জেলায় জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ১৫টি ঘটনার তথ্য নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে, যেগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দলটি মনে করে।
এর আগে রোববার জামায়াতে ইসলামির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট আহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্বেগের কথা তুলে ধরে।
















