যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসন প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, রোববার দেওয়া এক চিঠিতে ম্যান্ডেলসন জানান, দলকে আর বিব্রত না করতে তিনি লেবার পার্টির সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে গত বছর এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগসংক্রান্ত ইমেইল প্রকাশ পাওয়ার পর তাকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কূটনৈতিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ম্যান্ডেলসন তার চিঠিতে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আবারও তাকে এপস্টেইনকে ঘিরে চলমান বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা নিয়ে তিনি দুঃখিত ও অনুতপ্ত। তিনি দাবি করেন, দুই হাজার তিন ও দুই হাজার চার সালে এপস্টেইনের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তার বিশ্বাস, তবে বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অর্থ গ্রহণের বিষয়ে তার কোনো স্মৃতি নেই এবং নথিগুলোর সত্যতা নিয়েও তিনি নিশ্চিত নন। একই সঙ্গে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে কখনো পরিচিত হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
চিঠিতে ম্যান্ডেলসন আরও বলেন, তদন্ত চলাকালে তিনি লেবার পার্টিকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলতে চান না। সে কারণেই তিনি দলের সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি ভুক্তভোগী নারী ও কিশোরীদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তাদের কথা আরও আগেই শোনা উচিত ছিল।
এই পদত্যাগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত কিছু নথির কথাও উঠে এসেছে। সেসব নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, দুই হাজার তিন ও দুই হাজার চার সালে ম্যান্ডেলসন ও তার সঙ্গী এপস্টেইনের কাছ থেকে মোট প্রায় পঁচাত্তর হাজার ডলার পেয়েছিলেন। একই নথিতে ম্যান্ডেলসনের একটি ছবিও রয়েছে, যেখানে তিনি অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় এক নারীর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, যদিও ওই নারীর মুখ যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ ঝাপসা করে দিয়েছে।
এছাড়া প্রকাশিত ইমেইলে দেখা যায়, দুই হাজার নয় সালে ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ব্যাংক বোনাসের ওপর কর শিথিল করার চেষ্টা করছেন, যখন তিনি ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। সেই ইমেইলে তিনি এক প্রভাবশালী ব্যাংক প্রধানকে যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির পরামর্শও দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, এপস্টেইনসংক্রান্ত নথিতে রাজনীতি, ব্যবসা ও বিনোদন জগতের বহু পরিচিত ব্যক্তির নাম রয়েছে। তবে শুধু এসব নথিতে নাম থাকা মানেই কোনো অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
















