২০২৫ সালে স্বর্ণ, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে রেকর্ড সাফল্য; আটক ১৩ হাজারের বেশি অনুপ্রবেশকারী
বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষায় ২০২৫ সাল জুড়েই অত্যন্ত সক্রিয় ও কঠোর অবস্থানে ছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বছরব্যাপী পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে রেকর্ড ১ হাজার ৯০৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য, বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বিগত এক বছরের এই সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল চোরাচালান রোধই নয়, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের ১৩ হাজারের বেশি নাগরিককে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে স্বর্ণ, চিনি এবং জীবন রক্ষাকারী ওষুধের বড় বড় চালান জব্দ করার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এই সীমান্ত রক্ষীবাহিনী।
বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ২০২৫ সালে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জব্দকৃত চোরাচালান পণ্যের খতিয়ান
বিগত এক বছরে বিজিবির উদ্ধার করা উল্লেখযোগ্য মালামালের মধ্যে রয়েছে:
- মূল্যবান ধাতু: ৬০ কেজি ৫৫৬ গ্রাম স্বর্ণ এবং ১৬৮ কেজি ২৪১ গ্রাম রৌপ্য।
- বিলাসবহুল ও কসমেটিক্স: ১ লাখ ৭১ হাজার ১৯০টি শাড়ি এবং ৬৮ লাখ ৭৬ হাজারেরও বেশি কসমেটিক্স সামগ্রী।
- নিত্যপণ্য: প্রায় ১১ লাখ ৬৬ হাজার কেজি চিনি, ৩ লাখ কেজি পেঁয়াজ এবং ২ লাখ ৩৫ হাজার কেজি জিরা।
- অন্যান্য: ৯ হাজার ১৩টি মোবাইল ফোন, ১ লাখ ২৩ হাজার মোবাইল ডিসপ্লে এবং ১ হাজার ৭০৮টি বিভিন্ন প্রকার যানবাহন।
উদ্ধারকৃত মরণঘাতী অস্ত্র ও গোলাবারুদ
সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র:
১. আগ্নেয়াস্ত্র: ৬৪টি পিস্তল, ২টি এসএমজি, ১০টি রাইফেল এবং ৩টি রিভলভার।
২. বিস্ফোরক: ১৯টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ১৭৮টি ককটেল, ৭৯টি হাত বোমা এবং ৮টি মর্টার শেল।
৩. গোলাবারুদ: ১ হাজার ৫০৯টি গোলাবারুদ, ৭৩ হাজার ১০০টি সীসার গুলি এবং ২০ কেজি গান পাউডার।
মাদক বিরোধী অভিযান
মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ফলে উদ্ধার করা হয়েছে:
- ইয়াবা ও আইস: ১ কোটি ৪৭ লাখ ১৪ হাজার পিস ইয়াবা এবং ১০ কেজি ৪০৮ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস।
- ফেনসিডিল ও মদ: ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৯৬ বোতল ফেনসিডিল এবং ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৪৬ বোতল বিদেশি মদ।
- হেরোইন ও কোকেন: ৫৫ কেজি হেরোইন এবং ১৩ কেজি ৬৪৭ গ্রাম কোকেন।
অনুপ্রবেশ ও গ্রেপ্তার পরিসংখ্যান
বিগত বছরে সীমান্তে বিজিবির অভিযানে আটক করা হয়েছে মোট ১৩,৯৬৪ জনকে:
- চোরাচালানে জড়িত: ২,৩৩৪ জন পাচারকারী।
- অবৈধ অনুপ্রবেশ: ৪,২৩৮ জন বাংলাদেশি, ১২৪ জন ভারতীয় এবং ৭,৩৬৮ জন মিয়ানমার নাগরিক।
মিয়ানমার সীমান্তে চলমান অস্থিরতার মধ্যে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির তৎপরতা ছিল বিশেষ লক্ষণীয়। বিশেষ করে ৭ হাজারের বেশি মিয়ানমার নাগরিককে আটক করে ফেরত পাঠানো বা আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
















