আশির দশকের জনপ্রিয় গান টোটাল ইক্লিপ্স অব দ্য হার্ট দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া গায়িকা বনি টাইলারের সেই কালজয়ী গানটি অনলাইন সংগীত প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাইয়ে এক বিলিয়নবার শোনা হয়েছে। দীর্ঘ ৪৩ বছর পর এই অর্জনের মাধ্যমে গানটি সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় প্রেমের ব্যালাড হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করল।
তবে এত বিপুল শ্রোতার পরেও গানটি থেকে আর্থিকভাবে তেমন কিছুই পাননি বলে জানিয়েছেন ওয়েলসের নীথ শহরে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী। তার ভাষায়, এই গান থেকে পাওয়া আয় প্রায় কিছুই নয়।
গেইনর হপকিন্স নামে জন্ম নেওয়া বনি টাইলার ছোটবেলা থেকেই সংগীতপ্রেমী ছিলেন। সোয়ানসির একটি ক্লাবে প্রতিভা অন্বেষকের নজরে পড়ার পর শুরু হয় তার পেশাদার সংগীতযাত্রা। ১৯৭৭ সালে লস্ট ইন ফ্রান্স দিয়ে প্রথম একক গান প্রকাশ করলেও ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া টোটাল ইক্লিপ্স অব দ্য হার্ট তার জীবন পুরোপুরি বদলে দেয়।
গানটি প্রথম শোনার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বনি টাইলার জানান, নিউইয়র্কে সুরকার জিম স্টাইনম্যান পিয়ানোতে গানটি গেয়ে শোনানোর সময় তিনি বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলেন। শুরুতে গানটি আট মিনিট দীর্ঘ হওয়ায় রেডিওতে চলবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। তবে সংক্ষিপ্ত সংস্করণ মুক্তির পরই গানটি বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে। যুক্তরাজ্যে টানা দুই সপ্তাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রে চার সপ্তাহ তালিকার শীর্ষে ছিল এটি।
সম্প্রতি স্পটিফাই থেকে এক বিলিয়ন স্ট্রিমের স্মারক পাওয়ার পর ভক্তদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন বনি টাইলার। তিনি বলেন, পৃথিবীতে মোট জনসংখ্যার তুলনায় এই সংখ্যাটি ভাবলেই অবাক লাগে। বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত ব্যবহারের কারণে গানটি আজও মানুষের মনে জায়গা করে আছে।
ইউটিউবে গানটির মিউজিক ভিডিও এক দশমিক দুই বিলিয়নের বেশি বার দেখা হয়েছে। তবুও তিনি জানান, গানটি গাইতে কখনো বিরক্ত হন না, কারণ দর্শকরাই গানটি গাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন।
তবে স্ট্রিমিংয়ের বিপুল সংখ্যা যে শিল্পীর আয়ে প্রতিফলিত হয় না, সেটাও অকপটে স্বীকার করেন এই শিল্পী। একই সময়ে আরেকটি অর্জন হিসেবে তিনি ডিজে ডেভিড গুয়েত্তার একটি গানের জন্য স্বর্ণপদকও পেয়েছেন, যেখানে তার এই বিখ্যাত গানের অংশ ব্যবহার করা হয়েছে।
উৎসব উদযাপনে বড় কোনো আয়োজন না করলেও সংগীত কক্ষে স্মারকগুলো সাজিয়ে রাখবেন বলে জানান তিনি। গ্র্যামি মনোনয়নপ্রাপ্ত এই শিল্পীর ঝুলিতে হোল্ডিং আউট ফর আ হিরোসহ আরও বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান রয়েছে। ২০১৩ সালে তিনি ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন।
২০২২ সালে সংগীতে অবদানের জন্য তিনি রাজকীয় সম্মাননা পান। বর্তমানে ৭৪ বছর বয়সেও তিনি নিয়মিত মঞ্চে গান গাইছেন এবং বসন্ত মৌসুমে একাধিক কনসার্টে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার কথায়, এই বয়সেও গান গাইতে পারা তার কল্পনার বাইরে ছিল, আর সামনে দর্শকদের সঙ্গে আরও অনেক সুন্দর মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
















