ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি আবারও ক্ষমতায় ফেরার পথে এগোচ্ছেন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা শিয়া রাজনৈতিক জোটগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট তাঁকে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছে।
শিয়া কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইসলামিক দাওয়া পার্টির নেতা নুরি আল-মালিকিকে তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকার কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
পঁচাত্তর বছর বয়সী আল-মালিকি ইরাকের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর সহিংসতায় বিপর্যস্ত ইরাকে ২০০৬ সালে তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন। ওই সময় দেশজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা চলছিল।
২০১৪ সালে আইএসআইএল দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন। তবে এরপরও তিনি রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রাখেন। স্টেট অব ল’ জোটের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সক্রিয় থাকেন এবং ইরানঘেঁষা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন।
এই মনোনয়নের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ার পথ তৈরি হলো। সম্ভাব্য নতুন সরকারকে ইরানের ঘনিষ্ঠ শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো, যেমন আসাইব আহল আল-হাকের মতো সংগঠনের বিষয় সামলাতে হবে। একই সঙ্গে এসব গোষ্ঠী ভেঙে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপও মোকাবিলা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর থেকে ইরাকে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নুরি আল-মালিকি। বছরের পর বছর ধরে তিনি তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষের সঙ্গেই ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছেন। যে কোনো সরকার গঠনে তাঁর সমর্থনকে এখনো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সাম্প্রদায়িক বিভাজন উসকে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এক দশক আগে আইএসআইএলের উত্থান ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ও তাঁর ওপর চাপানো হয়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কারণে আল-মালিকি প্রায় পঁচিশ বছর নির্বাসনে ছিলেন। ২০০৩ সালে সাদ্দামের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। পরে তিনি দে-বাথিফিকেশন কমিশনের সদস্য হন, যে কমিশন সাদ্দামের বাথ পার্টির সদস্যদের সরকারি পদে নিষিদ্ধ করেছিল।
এই নীতির ফলে বিপুলসংখ্যক অভিজ্ঞ সরকারি কর্মকর্তা চাকরি হারান, যাঁদের বড় অংশ ছিলেন সুন্নি সম্প্রদায়ের। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়াই পরবর্তী সময়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর উত্থানে ভূমিকা রেখেছিল।
















