গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক শহরে প্রবল ঝড়ো হাওয়ার কারণে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সংস্থা জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে ত্রুটির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এমন সময় এই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ করেই নুক শহরের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানাতে শুরু করেন বাসিন্দারা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সেরমিতসিয়াক জানায়, একই সময়ে পুরো শহর অন্ধকারে ডুবে যায়।
বিদ্যুৎ সংস্থাটি জানিয়েছে, বুখসেফিয়র্ড জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার কারণে প্রধান সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। জরুরি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি কিছু এলাকায় পানির সরবরাহ ও ইন্টারনেট সংযোগেও সমস্যা দেখা দেয়। রোববার ভোরের দিকে বিদ্যুৎ সংস্থা জানায়, নুক শহরের প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে ৭৫ শতাংশের কাছে বিদ্যুৎ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। তবে পুরো ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে জানিয়ে নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কয়েক দিন আগেই গ্রিনল্যান্ড সরকার একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে, যেখানে সম্ভাব্য দুর্যোগের জন্য নাগরিকদের অন্তত পাঁচ দিনের খাবার, পানীয় জল, ওষুধ, উষ্ণ পোশাক ও বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়। সরকার স্পষ্ট করে জানায়, এটি কোনো আসন্ন সংকটের সতর্কবার্তা নয়।
তবে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক আলোচনায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করায় দ্বীপটি ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনে পড়ে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প বলেন, তিনি শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা আপাতত বাদ দিয়েছেন। তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো নিয়ে ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, সম্ভাব্য সেই সমঝোতার অনেক দিকই এখনো অস্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সামরিক ঘাঁটির আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইবে কি না, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন।
নিলসেন বলেন, তাঁর দেশের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই আপসের বিষয় নয় এবং এটি গ্রিনল্যান্ডের জন্য একটি অটল সীমারেখা।
















