প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত ৫ জন অস্ত্রধারী সদস্য; সিসিটিভি-ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড থাকছে নিরাপত্তায়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে সিআইডি সদর দপ্তরে এক মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অতীতের মতো একজন নয়, বরং প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে অন্তত ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৯ লাখ সদস্যের বিশাল বাহিনীর পাশাপাশি ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভির মাধ্যমে প্রতিটি বুথ মনিটর করা হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেন যে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার কোনো আপস করা হবে না এবং নির্বাচনটি সারা বিশ্বের কাছে একটি ‘রোল মডেল’ হয়ে থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে মালিবাগে সিআইডির ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনি নিরাপত্তার এক অভূতপূর্ব ব্লু-প্রিন্ট তুলে ধরেন।
অস্ত্রধারী সদস্যদের নতুন নিরাপত্তা বিন্যাস
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, অতীতের নির্বাচনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যে ফাঁকফোকর ছিল, এবার তা কঠোরভাবে বন্ধ করা হয়েছে:
- সাধারণ কেন্দ্র: ২ জন অস্ত্রধারী পুলিশ ও ৩ জন অস্ত্রধারী আনসার (মোট ৫ জন অস্ত্রধারী)।
- গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র: ৩ জন অস্ত্রধারী পুলিশ ও ৩ জন অস্ত্রধারী আনসার (মোট ৬ জন অস্ত্রধারী)।
- অতিরিক্ত শক্তি: লাঠি হাতে আরও ১০ জন আনসার সদস্য (৬ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী) প্রতিটি কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন।
প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি
ভোটের দিন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে: ১. বডি-ওর্ন ও সিসিটিভি ক্যামেরা: প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্বরত সদস্যদের গায়ে বডি ক্যামেরা থাকবে এবং ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ২. আকাশপথে ড্রোন: ৪১৮টি বিশেষ ড্রোনের মাধ্যমে সারা দেশের নির্বাচনি পরিস্থিতি আকাশ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ৩. পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপ: প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মকর্তা ও প্রবাসীরা অ্যাপের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে ভোট দিতে পারবেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর বিশাল মোতায়েন
এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে:
- সেনাবাহিনী: প্রায় ১ লাখ সদস্য সরাসরি মাঠে থাকবেন।
- অন্যান্য বাহিনী: বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব ও পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি ৫ লাখের বেশি আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
- সহযোগী সদস্য: প্রথমবারের মতো বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরা শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।
দুই পর্বের মোতায়েন পরিকল্পনা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, দেশজুড়ে দুই পর্বে বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বের টহল ইতিমধ্যে চলছে। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে, যা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ৭ দিন বলবৎ থাকবে। সিআইডির কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের শতভাগ সততা ও নিরপেক্ষতা একটি সফল নির্বাচনের মূল ভিত্তি।”
















