অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মালিকানাধীন মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন বিশ্বব্যাপী নতুন স্যাটেলাইট যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা পাঁচ হাজার চারশর বেশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক চালু করবে, যার নাম দেওয়া হয়েছে টেরাওয়েভ।
ব্লু অরিজিনের দাবি, টেরাওয়েভ সারা পৃথিবীতে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দেবে এবং বর্তমান স্যাটেলাইটভিত্তিক বাণিজ্যিক সেবাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত গতিতে বিপুল পরিমাণ তথ্য আদান-প্রদান করতে সক্ষম হবে।
তবে হাজার হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করলেও কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটের সংখ্যায় টেরাওয়েভ এখনো ইলন মাস্কের স্টারলিংকের তুলনায় অনেক কম থাকবে। স্টারলিংক বর্তমানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং এটি সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট ও ফোন সেবা দিয়ে থাকে।
ব্লু অরিজিন জানিয়েছে, তাদের টেরাওয়েভ নেটওয়ার্ক মূলত ডেটা সেন্টার, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারগুলোর জন্য কাজ করবে। সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সরাসরি সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত নেই।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ সক্ষমতায় টেরাওয়েভ প্রতি সেকেন্ডে ছয় টেরাবিট পর্যন্ত ডেটা আপলোড ও ডাউনলোডের গতি দিতে পারবে, যা বর্তমান বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সেবার তুলনায় অনেক বেশি।
টেরাওয়েভের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী হলো অ্যামাজনের নিজস্ব স্যাটেলাইট প্রকল্প লিও। এই প্রকল্পের অধীনে বর্তমানে প্রায় একশ আশি স্যাটেলাইট কক্ষপথে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তিন হাজারের বেশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। লিও মূলত সাধারণ মানুষের জন্য বৈশ্বিক উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
ব্লু অরিজিন জানিয়েছে, তারা দুই হাজার সাতাশ সালের শেষ নাগাদ টেরাওয়েভ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ শুরু করবে।
গত নভেম্বর মাসে ব্লু অরিজিন প্রথমবারের মতো একটি রকেট বুস্টার সফলভাবে সমুদ্রের ভাসমান প্ল্যাটফর্মে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়। এর আগে কেবলমাত্র স্পেসএক্স এই সাফল্য অর্জন করেছিল।
এছাড়া চলতি বছরের এপ্রিলে ব্লু অরিজিন সম্পূর্ণ নারী ক্রু নিয়ে স্বল্পমেয়াদি মহাকাশ ভ্রমণ পরিচালনা করে, যেখানে জেফ বেজোসের স্ত্রী লরেন সানচেজসহ কয়েকজন তারকা অংশ নেন। তবে অর্থনৈতিক সংকটের সময় এমন ব্যয়বহুল ও স্বল্পস্থায়ী ভ্রমণ আয়োজন নিয়ে কিছু মহল থেকে সমালোচনাও উঠে।
















