রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি বোর্ডে আপাতত যোগ দিচ্ছে না যুক্তরাজ্য। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এ কথা জানিয়েছেন।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুপার বলেন, যুক্তরাজ্যকে ওই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে নির্ধারিত অনুষ্ঠানে তারা স্বাক্ষরকারী হিসেবে থাকছে না।
তার ভাষায়, এই উদ্যোগটি শুধু গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি আইনি চুক্তি, যার প্রভাব আরও বিস্তৃত এবং জটিল।
হোয়াইট হাউস প্রস্তাবিত সনদে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কথা উল্লেখ নেই এবং এটি জাতিসংঘের কিছু ভূমিকার বিকল্প কাঠামো হিসেবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর ও ইসরায়েলসহ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে বোর্ডে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। দাভোসে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে পুতিন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি এবং রাশিয়া জানিয়েছে, তারা আমন্ত্রণটি এখনো পর্যালোচনা করছে।
বিবিসির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কুপার বলেন, যুক্তরাজ্য গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনাকে সমর্থন করে এবং শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে ভূমিকা রাখতে চায়। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় পুতিনকে শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
তিনি বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে পুতিন এখনো শান্তির প্রতি কোনো বাস্তব অঙ্গীকার দেখাননি। তাই এ ধরনের উদ্যোগে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা চাপে পড়েছে। গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি সেই উত্তেজনা বাড়িয়েছিল। পরে ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প শুল্ক পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন এবং বলপ্রয়োগের পথ বাতিল করেন।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে কুপার বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় দেশগুলো গঠনমূলক প্রস্তাব দিয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাজ্য অন্যতম প্রধান মিত্র। ফ্রান্সের সঙ্গে মিলে শান্তি চুক্তি হলে ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে একটি অভিপ্রায়পত্রেও স্বাক্ষর করেছে দেশটি।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই দাভোসে ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, পুতিন ও জেলেনস্কি একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছেন।
শান্তি বোর্ডটি মূলত গাজার পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউস প্রকাশ করেছিল। তবে ফাঁস হওয়া সনদে দেখা যায়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে সংঘাতপীড়িত অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, আইনসম্মত শাসন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।
সনদ অনুযায়ী, তিনটি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দিলেই এই সংস্থা কার্যকর হবে। সদস্যদের মেয়াদ হবে তিন বছর, নবায়নযোগ্য। এক বিলিয়ন ডলার আর্থিক অবদান রাখলে স্থায়ী আসনের সুযোগও রাখা হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এবং তিনি নির্বাহী বোর্ডের সদস্য নিয়োগ ও সহযোগী কাঠামো গঠন বা বিলুপ্ত করার ক্ষমতা রাখবেন।
হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে নির্বাহী বোর্ডের সাত সদস্যের নাম ঘোষণা করেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব ও কাতারও এতে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ভ্যাটিকান জানিয়েছে, পোপকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।













