দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে প্রস্তাবিত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) সইয়ের প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে উভয় দেশ আমদানি-রপ্তানিযোগ্য পণ্যের তালিকা চূড়ান্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-নেপাল অষ্টম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
বাণিজ্য বাধা দূর ও ট্যারিফ সহজীকরণ
বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং নেপালের বাণিজ্য সচিব রামপ্রসাদ ঘিমির নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ট্যারিফ (শুল্ক) ও প্যারা-ট্যারিফ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজতর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে একে অপরের বাজারে পণ্য প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
কানেক্টিভিটি ও ট্রানজিট সুবিধা
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি। বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে রেল সংযোগ সম্প্রসারণ এবং ট্রানজিট সুবিধা কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়ে দুই সচিব আলোচনা করেন। এছাড়া এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশ পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
ভিসা প্রক্রিয়া শিথিল ও পর্যটন উন্নয়ন
ব্যবসায়িক ও পর্যটন সম্পর্ক বাড়াতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়ে উভয় দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
- ভিসা সুবিধা: ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া শিথিল করা হবে।
- বিনিয়োগ: পর্যটন খাতে যৌথ বিনিয়োগ এবং বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।
- সহযোগিতা: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি সই হলে হিমালয় সংলগ্ন নেপালের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।















