মিডিয়া ডেলিগেশনের সঙ্গে মতবিনিময়; ঢাকার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক চায় ইসলামাবাদ
পাকিস্তানের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমান অশান্তি ও অস্থিতিশীলতার জন্য দিল্লির ‘আগ্রাসী নীতি’ দায়ী। তিনি ভারতের আচরণকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের আচরণের সঙ্গে তুলনা করে দাবি করেছেন, ভারতের কারণেই সার্ক অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইসলামাবাদে সফররত বাংলাদেশ মিডিয়া ডেলিগেশনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ইমরান সিদ্দিকী জানান, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে একটি টেকসই ও স্বাভাবিক সম্পর্ক চায়। বাংলাদেশ সরকার ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় বাণিজ্য, শিক্ষা ও কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।”
মতবিনিময়ের প্রধান দিকসমূহ:
- ভারতের ভূমিকা: ইমরান সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, ভারত সবসময় প্রতিবেশীদের হুমকি দিয়ে আসছে। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিন্দুর’ (একটি বিতর্কিত সামরিক কৌশল) ব্যর্থ হওয়ার পর দিল্লি দিশাহারা হয়ে পড়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি ‘দায়িত্বহীন’ বলে অভিহিত করেন।
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান সামরিক সহযোগিতা: তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো নিরাপত্তা ইস্যু নেই। বাংলাদেশ চাইলে প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহযোগিতায় পাকিস্তান পূর্ণ সমর্থন দিতে প্রস্তুত।
- সার্ক ও ত্রিদেশীয় ফোরাম: ভারতের অসহযোগিতার কারণে সার্ক জিম্মি হয়ে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান-চীন ত্রিদেশীয় ফোরাম কোনো দেশকে টার্গেট করে নয়, বরং আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য গঠন করা হচ্ছে বলে জানান।
- রোহিঙ্গা ইস্যু: রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ওআইসি ও জাতিসংঘে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নিশ্চয়তা দেন।
- তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ: ভারতের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশ যখনই সম্পর্ক বাড়াতে চায়, ভারত তাকে তার নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ মনে করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পৃথক এক আলোচনায় পাকিস্তানের থিংকট্যাংক আইআরএস-এর প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত জওহর সেলিম বলেন, ভারত তার প্রতিবেশীদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করায় এ অঞ্চলের দেশগুলো এখন চীনের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সালমা মালিক দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ’৭১-এর স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
















