১২ অক্টোবর ২০২৫
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে।
বিএনপি থেকে শুরু করে ইসলামি ও নতুন উদীয়মান দলগুলো এখন ভোটের মাঠে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে ব্যস্ত।
বিএনপির প্রস্তুতি ও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন সম্ভাবনা
বিএনপি ইতোমধ্যেই প্রার্থী বাছাই ও শরিক দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু করেছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি ফিরলে বিএনপির নির্বাচনী গতি আরও বাড়বে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,
“জুলাই সনদ বিষয়ে বিএনপি সবসময় আন্তরিক। এ নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে আমাদের অবস্থানের সঙ্গে বেশিরভাগ দলই একমত হয়েছে। গণভোট জাতীয় নির্বাচনের দিনেই হওয়া উচিত।”
ইসলামি দলগুলোর ভিন্ন অবস্থান
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট প্রসঙ্গে মাওলানা মামুনুল হক বলেন,
“জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী নভেম্বরেই গণভোট দিতে হবে।”
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ মন্তব্য করেন,
“সরকার যদি কিছু চাপিয়ে দেয়, জনগণ তা মানবে না।”
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরও বলেন,
“গণভোটের মাধ্যমেই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে হবে।”
নতুন দলগুলোর অবস্থান
জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনো নিজেদের অবস্থান নির্ধারণে দ্বিধায়। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন,
“গণভোট কবে হবে এবং ভিন্নমতের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত দেখেই আমরা পরবর্তী অবস্থান জানাব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণদের নিয়ে গঠিত এনসিপি শুরুতে জনপ্রিয়তা পেলেও অভ্যন্তরীণ সংকটে দলটি এখন রাজনৈতিকভাবে দুর্বল।
ঐকমত্য কমিশনের ভূমিকা
রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে ৮৪টি প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছে, যার ভিত্তিতে তৈরি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। কমিশন সূত্র জানিয়েছে, বাস্তবায়নের উপায় হিসেবে গণভোটকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।
১৫ অক্টোবর সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সনদে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে। যদিও গণভোটের সময়, পদ্ধতি ও ‘ভিন্নমত’ প্রস্তাবগুলো নিয়ে এখনো কিছু মতবিরোধ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান মনে করেন,
“জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশে সব দলের সম্মতি থাকা জরুরি। সরকার যদি একতরফাভাবে কিছু চাপিয়ে দেয়, তা হলে সেটি উল্টো ফল বয়ে আনবে।”
দেশজুড়ে নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ছে। জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে তৈরি রাজনৈতিক ঐকমত্য এবার জাতীয় রাজনীতির মূল গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে। তবে গণভোটের সময় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে সব রাজনৈতিক দল।
















