ইয়েমেনের প্রধান দক্ষিণী বিচ্ছিন্নতাবাদী জোট সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির মহাসচিব আবদুর রহমান জালাল আল-সুবাইহি। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর শুক্রবার ইয়েমেনি টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দক্ষিণ ইয়েমেন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আল-সুবাইহি সৌদি আরবের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দক্ষিণের জনগণের চাহিদা পূরণে রিয়াদ যে সমাধান দিয়েছে, তা ইতিবাচক। তবে এই ঘোষণাকে দ্রুতই অস্বীকার করেন এসটিসির মুখপাত্র আনোয়ার আল-তামিমি। আবুধাবিতে অবস্থানরত আল-তামিমি একে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, রিয়াদে থাকা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই, যা সংগঠনের ভেতরে বিভক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আল-তামিমি বলেন, এসটিসি সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত শুধু পুরো কাউন্সিল ও এর সভাপতির মাধ্যমেই নেওয়া সম্ভব। রিয়াদে থাকা প্রতিনিধিদল মুক্তি পাওয়ার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, দক্ষিণ ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে রাজনৈতিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
এর মধ্যেই এসটিসির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি শনিবার আদেন ও মুকাল্লায় বিক্ষোভে অংশ নিতে সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছে। তারা আংশিক বা এড়িয়ে যাওয়ার মতো কোনো সমাধান প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে।
ডিসেম্বরে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে এসটিসির সামরিক অভিযানের পর থেকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। রিয়াদ দাবি করছে, এসটিসি আবুধাবির সমর্থনপুষ্ট। বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি রিয়াদে আলোচনায় অংশ না নিয়ে সোমালিল্যান্ড হয়ে আমিরাতে পালিয়ে গেছেন।
আল জাজিরার বিশ্লেষক হাসেম আহেলবারার মতে, এসটিসির সম্ভাব্য ভাঙন একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা হলেও তা পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। তাঁর ভাষ্য, তেলসমৃদ্ধ হাদরামাউত ও আল-মাহরা দখলের মাধ্যমে দক্ষিণ ইয়েমেনে নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের চেষ্টা ছিল এসটিসির বড় ভুল হিসাব।
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এক্সে দেওয়া বার্তায় এসটিসি ভাঙনের ঘোষণাকে ‘সাহসী পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি দক্ষিণ ইয়েমেন ইস্যুতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের পথ খুলে দিতে পারে।
সৌদি আরব ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এসটিসির সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। এর জেরে মুকাল্লা বন্দরে দুটি জাহাজে হামলা চালানো হয়, যেগুলোতে আমিরাত-সংযুক্ত অস্ত্র পাঠানো হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেন সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে এবং আমিরাতি বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়, যা দুই সাবেক মিত্রের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি করেছে।
২০১৭ সালের এপ্রিলে গঠিত এসটিসি ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে থাকা দক্ষিণ ইয়েমেন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। বর্তমান সংকটে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
















