ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান এখন ‘বড় বিপদের’ মুখে রয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি।
শুক্রবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের জনগণ এমন কিছু শহরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কল্পনা করা যায়নি। তিনি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে বলেন, তাদের ওপর গুলি চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে। এর আগে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভাষণে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি চলমান বিক্ষোভকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করছে এমন লোকজন এসব সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়নের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৪৮ জন বিক্ষোভকারী। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন।
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট কার্যত অচল রয়েছে। টেলিফোন সেবাও ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে জনগণের ‘যৌক্তিক দাবি’ শোনার কথা বলেছেন। তবে সরকারের অন্য শীর্ষ মহল থেকে বলা হয়েছে, বিদেশি শক্তির মদদে সহিংসতা ছড়ালে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বিক্ষোভে সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লেবাননে এক বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংস রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও সরাসরি বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা তিনি কম বলে মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এসব অভিযোগকে ‘ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে আগুন জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ অনেক এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সাধারণ মানুষকে সেসব স্থান এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার দরপতন থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন ইরানের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক চাপ, অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দেশটির পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব।
















