“খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে,” বলেন নজরুল ইসলাম খান।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার বিষয়সহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউর একটি প্রতিনিধি দল। নির্বাচনের পর দেশের উন্নয়নে বিএনপির চিন্তা-ভাবনা কী, সে বিষয়ে ইইউর প্রতিনিধি দলটি জানতে চেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ইইউর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, শ্রম আইন এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা বড় একটি নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে মূলত তারা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। এই প্রেক্ষাপটে ইইউর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “তাদের প্রধান জিজ্ঞাসা ছিল আসন্ন নির্বাচন কেমন হতে যাচ্ছে এবং আমাদের ভূমিকা কী থাকবে। বিশেষ করে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে এদেশের উন্নয়নে বিএনপির ভাবনা-চিন্তা কী, তা তারা জানতে চেয়েছেন।”
নজরুল ইসলাম খানের ভাষ্যমতে, তারেক রহমান বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে দ্রুত নির্বাচন করার দাবিটি বিএনপিরই ছিল। বিএনপি চায় নির্ধারিত তারিখেই যেন একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। তারেক রহমান ইইউ প্রতিনিধিদের বলেন যে, দেশের মানুষ দীর্ঘকাল ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তারা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে একটি সুষ্ঠু পরিবেশে নিজেদের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করতে।
১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ৩০ ডিসেম্বর মা খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর বর্তমানে তিনিই নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশে ফেরার পর এই প্রথম কোনো বিদেশি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করলেন তিনি।
বাংলাদেশের উন্নয়নে ইইউর দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য তারেক রহমান তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি অনুরোধ করেছেন যেন আগামী দিনে এই সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পায়। এর জবাবে ইইউ প্রতিনিধি দল বড় পরিসরে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া বৈঠকে শ্রম অধিকার নিয়ে ইইউর উদ্বেগের বিষয়ে তারেক রহমান জানান, বিএনপি সরকারই সবসময় শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করেছে এবং আগামীতেও শ্রম আইনের ইতিবাচক পরিবর্তনগুলোকে এগিয়ে নিতে দল আগ্রহী।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ এখন আলহামদুলিল্লাহ ভালোই আছে। আমরাই চাই নির্বাচনে শান্তি বজায় থাকুক। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে ফিরে প্রথম ভাষণেই শান্তি ও সমঝোতার কথা বলেছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ইইউ পর্যবেক্ষক না পাঠালেও এবার বড় দল পাঠাচ্ছে, যা প্রমাণ করে তারা এই নির্বাচনের ওপর আস্থা রাখছে।
ইইউর প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহ উল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন।
















