সুন্দরবনের কানুরখোলা খাল এলাকা থেকে অপহৃত রিসোর্ট মালিক ও দুই পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। ৪ জানুয়ারি রাতে পুলিশ ও কোস্টগার্ডের অভিযানে তারা দস্যুমুক্ত হন।
সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত রিসোর্ট মালিকসহ দুই পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ অভিযান শেষে রবিবার রাতে তাদের উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও কোস্টগার্ড। খুলনার দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, অপহৃত পর্যটক ও রিসোর্ট মালিক বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং তারা পুলিশের হেফাজতে আছেন। আজ সোমবার কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২ জানুয়ারি। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক সুন্দরবনের কানুরখোলা খাল এলাকায় ঘুরতে গেলে বনদস্যুদের কবলে পড়েন। অপহৃতরা খুলনার দাকোপের ঢাংমারী এলাকার ‘গোল কানন’ নামক একটি রিসোর্টে বেড়াতে এসেছিলেন। বিকেলের দিকে রিসোর্ট মালিকের সঙ্গে তারা সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আওতাধীন বনাঞ্চলে ঘুরতে বের হলে কুখ্যাত বনদস্যু ‘মাসুম বাহিনী’ তাদের ওপর হামলা চালায় এবং অপহরণ করে।
অপহরণের সময় দস্যুরা দুই নারী পর্যটক ও নৌকার দুই মাঝিকে ছেড়ে দিলেও রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড় এবং পর্যটক সোহেল ও জনিকে মুক্তিপণের দাবিতে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে দস্যুরা রিসোর্ট মালিকের পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই তাদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে চিরুনি অভিযান শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমাগত চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত দস্যুরা অপহৃতদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।














