আইনটি বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি তামাক কোম্পানিগুলোর সিএসআর (CSR) কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রচারণাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটি তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কার্যকর হলো নতুন আইন: ই-সিগারেট ও ভ্যাপ নিষিদ্ধ, অমান্য করলে ২ হাজার টাকা জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান
দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এই নতুন আইনটি কার্যকর হয়। নতুন এই অধ্যাদেশে ই-সিগারেট ও ভ্যাপিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই আইনটি তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে আনতে এবং তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ই-সিগারেট ও ভ্যাপে কড়া নিষেধাজ্ঞা
নতুন আইনে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP) এবং নিকোটিন পাউচের মতো সব ধরনের উদীয়মান তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড এবং ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার কঠোর শাস্তি রাখা হয়েছে।
পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে কঠোরতা
এখন থেকে সব ধরণের পাবলিক প্লেস এবং গণপরিবহনে ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। পাবলিক প্লেসের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন ও প্যাকেজিংয়ে পরিবর্তন
তামাকজাত পণ্যের প্রচার রোধে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এমনকি ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্ম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্রয়স্থলে (Point of Sales) তামাকের প্যাকেট প্রদর্শন করা যাবে না। পাশাপাশি প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ জায়গা জুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিড়ি উৎপাদন ও আসক্তি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ
১৯৭৫ সালের বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে বিড়ি শিল্পকে মূল আইনের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে। বিশেষ করে কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন ও বিপণন এখন থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ। তামাকের সাথে অন্য কোনো আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানোকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
















