বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ ম্যানাস অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিকে বিরল সীমান্ত পেরোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মেটা জানিয়েছে, এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে তারা ম্যানাসের স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্টের পরিচালন দায়িত্ব নেবে এবং নিজেদের বিভিন্ন পণ্যে প্রযুক্তিটি যুক্ত করবে।
২০২২ সালে চীনে প্রতিষ্ঠিত ম্যানাস চলতি বছরের শুরুতে তাদের কার্যক্রম সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের এআই এজেন্টকে একটি ভার্চুয়াল সহকর্মী হিসেবে তুলে ধরে, যা পরিকল্পনা তৈরি থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ কাজ বাস্তবায়ন ও ফলাফল সরবরাহ করতে সক্ষম।
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল কোম্পানি মেটা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় সাধারণ উদ্দেশ্যের এআই এজেন্ট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ম্যানাসের দক্ষ ও প্রতিভাবান কর্মীরা মেটার দলে যুক্ত হয়ে ভোক্তা ও ব্যবসায়িক পণ্যে, বিশেষ করে মেটা এআই প্ল্যাটফর্মে, নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। মেটা জানিয়েছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা কোটি কোটি মানুষ ও লাখো ব্যবসার জীবনমান উন্নত করতে আগ্রহী।
ম্যানাসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিয়াও হং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই চুক্তিকে স্বয়ংক্রিয় এআই নিয়ে সংশয়বাদীদের জবাব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অনেকেই এই উদ্যোগকে সময়ের আগেই নেওয়া বা অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী বলে মনে করেছিল, কিন্তু সব বাধা ও সন্দেহের মধ্যেও তারা কাজ চালিয়ে গেছেন।
শিয়াও হংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন এআইয়ের যুগ শুরু হয়েছে যা শুধু কথা বলে না, বরং কাজ করে, তৈরি করে এবং বাস্তব ফলাফল দেয়। মেটার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে এই প্রযুক্তি এমন পরিসরে উন্নত করা সম্ভব হবে, যা আগে কল্পনাও করা যায়নি।
চুক্তির আর্থিক শর্ত প্রকাশ করা হয়নি।
ম্যানাস দাবি করেছে, তারা ইতিমধ্যে আট কোটির বেশি ভার্চুয়াল কম্পিউটার তৈরি করেছে। চলতি বছরের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পরই প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তি মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং চীনে তৈরি চ্যাটবট ডিপসিকের মতো আলোড়ন সৃষ্টি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ম্যানাসের এআই এজেন্ট ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি কিংবা শেয়ারবাজার বিশ্লেষণের মতো কাজ খুব সামান্য মানব হস্তক্ষেপে করতে পারে। যদিও এর সক্ষমতা নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন ভিন্ন ভিন্ন।
এই মাসের শুরুতে ম্যানাস জানায়, তাদের বার্ষিক পুনরাবৃত্ত আয় একশ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত এই মাইলফলক অর্জনকারী স্টার্টআপগুলোর একটি তারা।
















