উত্তর মংডুতে জান্তা বাহিনীর ত্রিমুখী বিমান হামলা; ভূমিকম্পের মতো কম্পন ও বিকট শব্দে বিনিদ্র রাত কাটালেন সীমান্তবর্তী ১৫ গ্রামের মানুষ
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাত এখন চরম রূপ নিয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উত্তর মংডু এলাকায় জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে ছোঁড়া শক্তিশালী বোমার বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠায় ভূমিকম্পের আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন হাজার হাজার মানুষ।
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ |
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে আবারও যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। শনিবার রাত ১০টা ৩৮ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অন্তত তিনটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এই শব্দ সাধারণ গোলাগুলির শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ শক্তিশালী হওয়ায় সীমান্তে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
যুদ্ধের ভয়াবহতা ও জনমনে আতঙ্ক
সীমান্তের পালংখালী, রহমতের বিল ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ৩-৪ মিনিটের ব্যবধানে পরপর কয়েকটি বিকট শব্দে তাদের ঘরবাড়ির জানালার কাঁচ ও আসবাবপত্র কেঁপে ওঠে। কুতুপালং গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় চৌধুরী বলেন, “শব্দের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে আমরা মনে করেছি ভূমিকম্প হচ্ছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে দ্রুত রাস্তায় বেরিয়ে আসি। এমন শব্দ আগে কখনো শুনিনি।”
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অধিকারকর্মী সাহাত জিয়া হিরো জানিয়েছেন, মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী উত্তর মংডু এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ক্যাম্পের ঘরগুলোও প্রকম্পিত হয়েছে।
রাখাইন পরিস্থিতি ও জান্তার বিমান হামলা
রাখাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মংডু ডেইলি নিউজ’ জানিয়েছে, আরকান আর্মির দখলে থাকা কিয়াও চাউং ডিভিশন ও গান চাউং ব্যাটালিয়ন লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনীর এসএসএ যুদ্ধবিমান তিনবার বোমা বর্ষণ করেছে। উত্তর মংডুর এই অঞ্চলটি বর্তমানে আরকান আর্মির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সংঘাতের জেরে গত নভেম্বর পর্যন্ত নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজিবির ভাষ্য ও কড়া নজরদারি

উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৮ থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার ভেতরে বলিবাজার এলাকায় মিয়ানমার বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে বোমা নিক্ষেপের ঘটনাটি ঘটেছে।
তিনি বলেন, “আরাকান আর্মির দখলে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজিবির সব বিওপি ও ক্যাম্পে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।”
চলতি মাসে ১৩ ও ১৭ ডিসেম্বরও সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল, তবে শনিবার রাতের এই বিস্ফোরণ সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল বলে সীমান্তবাসী জানিয়েছেন।
















