নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ; বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কায় তদন্তে নেমেছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট
ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি মাদরাসা ভবনে শক্তিশালী বিস্ফোরণে ভবনটির দেওয়াল ধসে পড়েছে এবং নারী-শিশুসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ ককটেল, রাসায়নিক দ্রব্য এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মাদরাসা বন্ধ থাকায় অর্ধশত শিক্ষার্থী বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা’র একতলা ভবনে শুক্রবার দুপুরে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ভবনের দুটি কক্ষের দেওয়াল সম্পূর্ণ উড়ে গেছে এবং সংলগ্ন অন্য ভবনগুলোতেও ফাটল ধরেছে।
বিস্ফোরণের বর্ণনা ও ক্ষয়ক্ষতি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জুমার নামাজের সময় হঠাৎ বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে মাদরাসা ভবনের ছাদ ও দেওয়াল ধসে পড়তে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী আফসার উদ্দিন জানান, মাদরাসাটিতে প্রায় ৫০ জন ছাত্র পড়াশোনা করলেও শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় ভবনটি প্রায় খালি ছিল। কেবল পরিচালক ও তার পরিবার সেখানে অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণে ভবনের বিম ও ছাদে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং আসবাবপত্র চুরমার হয়ে গেছে।
আহতদের অবস্থা
বিস্ফোরণে মাদরাসার পরিচালক শেখ আল আমিন (৩২), তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাদের দুই শিশু সন্তান উমায়েত (১০) ও আব্দুল্লাহ (৭) দগ্ধ ও আহত হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের শরীরের কত শতাংশ দগ্ধ হয়েছে, তা এখনো চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেননি।
আড়ালে চলছিল বোমা তৈরির কাজ?
বাড়ির মালিক পারভীন বেগম জানান, গত তিন বছর ধরে মুফতি হারুন নামের এক ব্যক্তি ভবনটি ভাড়া নিয়ে মাদরাসা পরিচালনা করছিলেন। তবে মাদরাসার আড়ালে সেখানে কী কার্যক্রম চলত, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ভবনের ভেতর থেকে তাজা ককটেল, উচ্চ মাত্রার দাহ্য রাসায়নিক ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এটি কেবল কোনো গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ কি না, নাকি পরিকল্পিতভাবে বোমা তৈরির সময় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং মাদরাসার প্রধান মুফতি হারুনের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।















