প্রতীক্ষার অবসান: লন্ডন থেকে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান; নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়ছে রাজধানী
বাংলাদেশের রাজনীতির এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ সামনে রেখে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁকে বরণ করতে রাজধানী ঢাকাকে বর্ণিল সাজে সাজানোর পাশাপাশি দেশব্যাপী ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি।
তারিখ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) এক দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বদেশে পদার্পণ করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ২০২০ ফ্লাইটে রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। তাঁর সাথে ফিরছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এটি কেবল একজন নেতার প্রত্যাবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বৃহত্তম গণজমায়েত হতে যাচ্ছে।
৩০০ ফুটে বিশাল গণসংবর্ধনা তারেক রহমানকে বরণ করতে খিলক্ষেত সংলগ্ন ৩০০ ফুট এলাকায় এক বিশাল গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, এই সমাবেশে অন্তত ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। রাজধানী ঢাকার প্রবেশপথগুলো ইতোমধ্যে নেতা-কর্মীদের ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে ছেয়ে গেছে। দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে নেতা-কর্মীরা ঢাকামুখী হচ্ছেন; পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০টি রুটে বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ পরিচালনা করছে রেলওয়ে।
নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তারেক রহমানের নিরাপত্তাকে ঘিরে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ বিএনপি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েক স্তরের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা টিম (সিএসএফ) নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে ইউনিফর্মধারী ও সাদাপোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের কঠোর নজরদারি থাকবে বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত। বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসএফ নিরাপত্তার আবেদন করা হয়েছে এবং তারেক রহমানের ব্যবহারের জন্য দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি ও একটি বিশেষ বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রথম গন্তব্য: এভারকেয়ার হাসপাতাল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তাঁর চিকিৎসাধীন মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে। যাওয়ার পথেই তিনি ৩০০ ফুটের সংবর্ধনা মঞ্চে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও নেতা-কর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
রাজনৈতিক তাৎপর্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় তিনি প্রবাসে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর এই ফেরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
তবে দলের পক্ষ থেকে নেতা-কর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কোনোভাবেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত না হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না ঘটে।
















