ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা অংশে সাত কিলোমিটার সড়কে গর্ত ও ভাঙনে নিত্য দুর্ঘটনা
কুমিল্লা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা অংশে ভয়াবহ ভাঙন ও বড় বড় গর্তে সড়কটি এখন কার্যত ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনায় আতঙ্কে চলাচল করছেন যাত্রী ও চালকরা।
কসবা এলাকায় কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়ক-এর প্রায় সাত কিলোমিটার অংশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তিনলাখ পীর, মনকাশাইর, কুটি চৌমুহনী, কাঠেরপুল ও কালামুড়িয়া এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত, ভাঙা বর্ডার ও খানাখন্দে যান চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চালকদের অভিযোগ, সড়কের বেহাল দশার কারণে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। লোডভর্তি ট্রাকচালক সালাউদ্দিন বলেন, “সাত কিলোমিটার রাস্তা স্বাভাবিকভাবে ১৫ মিনিটে পার হওয়ার কথা। এখন সেখানে এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। অনেক সময় দীর্ঘ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়।”


ভোগান্তি বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের জন্যও। বৃষ্টির সময় কাদা-পানিতে রাস্তার অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন প্রায়ই পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষায়, প্রতিদিনই জীবন হাতে নিয়ে এই সড়ক পার হতে হচ্ছে।
সড়ক সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকম-এর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দাবি করেছেন, সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। তবে কাজের গতি ও মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে মো. ছামিউল ইসলাম, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বলেন—
“রাস্তার সংকটের বিষয়টি আমরা অবগত। ঠিকাদারকে দ্রুত ও মানসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ না হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের প্রশ্ন—কবে মিলবে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা?
















