কানাডা সরকার দেশটির তেল ও গ্যাস খাতে মিথেন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুত নতুন বিধিমালা ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এসব নিয়ম অনুযায়ী, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০৩৫ সালের মধ্যে মিথেন নিঃসরণ ৭৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বিধিগুলো কার্যকর হবে ২০২৮ সাল থেকে।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ কানাডা। সরকার জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনার ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য মোট নিঃসরণ প্রায় ৩০৪ মিলিয়ন টন কমানো সম্ভব হবে। এই উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ, যেখানে তিনি মিথেন নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান নীতিমালা আরও কঠোর করার কথা বলেছিলেন।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৭৫ শতাংশ নিঃসরণ কমানোর একটি প্রস্তাব ছিল, তবে সেটি কার্যকর হয়নি। শিল্পখাতের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন কঠিন বলে সমালোচনা করা হয়েছিল। নতুন নিয়মে সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হলেও লক্ষ্য একই রাখা হয়েছে।
মিথেন বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো দীর্ঘস্থায়ী না হলেও, ২০ বছরের হিসাবে এটি প্রায় ৮০ গুণ বেশি তাপ ধরে রাখতে সক্ষম। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কানাডার মোট মিথেন নিঃসরণের প্রায় অর্ধেকই আসে তেল ও গ্যাস খাত থেকে। উৎপাদনের সময় ভেন্টিং ও ফ্লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি মিথেন বাতাসে ছাড়ে, পাশাপাশি কূপ ও অন্যান্য অবকাঠামোর ফাঁকফোকর দিয়েও এই গ্যাস বেরিয়ে যায়।
নতুন বিধিমালায় নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ভেন্টিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি যন্ত্রপাতির লিক শনাক্ত ও মেরামতের জন্য বাধ্যতামূলক পরিদর্শন সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অপারেটররা চাইলে নির্ধারিত মিথেন ঘনত্বের সীমা মেনে নিজেদের মতো নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি তৈরি করতে পারবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেল ও গ্যাস খাতে মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ এখনও বাড়ছে। ফলে ২০০৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ নিঃসরণ কমানোর জাতীয় লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবেশবাদীদের একাংশের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী কারনি সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কিছু পরিবেশগত নীতি শিথিল করেছেন। তবে মিথেন নিয়ন্ত্রণে কানাডা ইতিমধ্যেই কিছু অগ্রগতি দেখিয়েছে। আগের বিধিগুলোর মাধ্যমে ২০১২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মিথেন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য পূরণের পথে রয়েছে দেশটি।
সরকার আরও জানিয়েছে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে তেল ও গ্যাস উৎপাদন মাত্র শূন্য দশমিক দুই শতাংশ কমবে, যা অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে তারা মনে করছে।
















