অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি উৎসবে বন্দুক হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হনুক্কার প্রথম দিনে আয়োজিত ‘চানুক্কা বাই দ্য সি’ অনুষ্ঠানে এ হামলাকে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ একটি সন্ত্রাসী ও ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত আক্রমণ বলে উল্লেখ করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই হামলাকে অকল্পনীয় ও ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ছিল সরাসরি ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত। তিনি ইহুদি নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, অস্ট্রেলিয়া তাদের পাশে রয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস লাক্সন গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, বন্ডাই বিচ এমন একটি স্থান যেখানে প্রতিদিন বহু নিউজিল্যান্ডের মানুষ যান। এই ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে মর্মাহত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে ভয়াবহ ও স্পষ্টতই ইহুদিবিদ্বেষী হামলা বলে মন্তব্য করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, বিশ্বে ইহুদিবিদ্বেষের কোনো স্থান নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র ভুক্তভোগীদের পাশে রয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলাকে জঘন্য বলে নিন্দা জানিয়ে বলেন, হনুক্কা উদযাপন করতে জড়ো হওয়া পরিবারগুলোর ওপর এই হামলা মানবতার জন্য কলঙ্ক।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ হামলাকে নিষ্ঠুর আখ্যা দিয়ে বলেন, সিডনিতে হনুক্কার প্রথম প্রদীপ জ্বালাতে জড়ো হওয়া ইহুদিদের ওপর এ আক্রমণ গভীর উদ্বেগজনক। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত একজন ইসরায়েলি নাগরিক রয়েছেন।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহিংসতা ও সন্ত্রাসের সব রূপ প্রত্যাখ্যান করে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস এক বিবৃতিতে বলেন, ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর এই ইহুদিবিদ্বেষী সন্ত্রাসী হামলা তাঁকে ও রানিকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, হনুক্কার সময় এই ইহুদিবিদ্বেষী হামলা মানবিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, তার দেশ ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবে।
নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ইতালি, স্পেন ও আয়ারল্যান্ডের শীর্ষ নেতারাও হামলার নিন্দা জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জনগণ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করে বলেছে, নিরপরাধ মানুষের হত্যা যেখানেই ঘটুক তা অগ্রহণযোগ্য।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন হামলায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস বলেন, ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এই সহিংসতা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও তুরস্ক হামলার নিন্দা জানিয়ে সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, বিশ্বজুড়ে ঘৃণা ও চরমপন্থা ছড়িয়ে পড়ার ফলেই এমন ট্র্যাজেডি ঘটছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধান রাব্বি এফ্রাইম মিরভিস এই ঘটনাকে ভাষায় প্রকাশের অযোগ্য ট্র্যাজেডি বলে উল্লেখ করেন।
অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিলও হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এই সংকটময় সময়ে সব অস্ট্রেলীয়কে ঐক্য, সহমর্মিতা ও সংহতির সঙ্গে দাঁড়াতে হবে।
সব মিলিয়ে, সিডনির এই হামলা বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে উদ্বেগ ও প্রতিবাদের ঢেউ তুলেছে।
















