৬ অক্টোবর ২০২৫
মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক পুনর্গঠন দেশটির পরবর্তী প্রজন্মের সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্যেষ্ঠ সেনা প্রধান মিন অং হ্লাইং-এর শাসন এখন অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চাপের মুখে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে উত্তর ও দক্ষিণ এই দুই আঞ্চলিক কমান্ড থেকে একটি জটিল সামরিক কাঠামোয় পরিণত হয়। ১৯৭০–এর দশকের শেষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিউরো অব স্পেশাল অপারেশনস (BSO) গঠন করে, যার লক্ষ্য ছিল বাড়তে থাকা আঞ্চলিক কমান্ডগুলো তত্ত্বাবধান করা। ২০০৭ সাল নাগাদ দেশজুড়ে ১৪টি আঞ্চলিক কমান্ডকে তত্ত্বাবধান করত ছয়টি BSO।
কিন্তু ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর এই কাঠামো ভেঙে পড়ে। সেনা জান্তা বহু এলাকা ও ১০০-র বেশি ব্যাটালিয়ন ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হারায়, যার মধ্যে দুটি আঞ্চলিক কমান্ডও ছিল। চীনের সহায়তায় উত্তর শান রাজ্যে কিছু অগ্রগতি এলেও, লাশিও শহর এখনো মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (MNDAA)-এর হুমকির মুখে। একইভাবে রাখাইন রাজ্যে ওয়েস্টার্ন কমান্ড-কে তাদের ঘাঁটি আন টাউনশিপ থেকে সরিয়ে সিত্তওয়ে-তে স্থানান্তরিত হতে হয়, আরাকান আর্মি-র অগ্রযাত্রায়।
২০২৪ সালের শেষ দিকে চীনের সহায়তায় জান্তা পাল্টা অভিযান শুরু করে হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে। বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসের সামরিক পুনর্গঠন সেই প্রেক্ষাপটেই—এটি শুধু বাস্তব সামরিক পরিস্থিতি নয়, বরং সম্ভাব্য পরবর্তী নেতৃত্ব হস্তান্তর-এর প্রস্তুতিও।
নতুন নেতৃত্ব ও কমান্ড কাঠামো
সামরিক সূত্র জানায়, BSO-6 বিলুপ্ত করা হয়েছে, ফলে এখন কার্যকর পাঁচটি ব্যুরো অব স্পেশাল অপারেশনস।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে BSO-5–এ, যা এখন চারটি প্রধান আঞ্চলিক কমান্ড—সেন্ট্রাল, নেপিদো, সাউদার্ন এবং ইয়াঙ্গুন—এর দায়িত্বে।
এই অঞ্চলগুলোকে সেনা জান্তার শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হলেও, মান্দালে, মাগওয়ে ও বাগো অঞ্চলে বিদ্রোহী তৎপরতা অব্যাহত। ইয়াঙ্গুন শহরেও নগর গেরিলা হামলা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে BSO-5–এর ওপর দায়িত্ব পড়েছে রাজধানীসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল কো কো উ, যিনি পূর্বে BSO-1–এর প্রধান ছিলেন, এখন BSO-5–এর নেতৃত্বে। তিনি মিন অং হ্লাইং-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং চীন ও MNDAA–এর সঙ্গে সীমান্ত-সংক্রান্ত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তাকে ভবিষ্যতে ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ পদে দেখা যেতে পারে।
উত্তরাধিকারের জল্পনা
কো কো উ ছাড়াও, চিফ অব জেনারেল স্টাফ কিয়াও সোয়ার লিন এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো মিন টুন—এই তিনজনই মিন অং হ্লাইং–এর সময়কালের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম।
যদিও মো মিন টুনকে বর্তমানে পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে, কিয়াও সোয়ার লিন—যিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস একাডেমি–র ৩৫তম ব্যাচের সদস্য—মিন অং হ্লাইং-এর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
কো কো উ-কে তার সম্ভাব্য উপ–সেনাপ্রধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই পুনর্গঠন মূলত মিন অং হ্লাইং-এর উত্তরাধিকার পরিকল্পনার অংশ, যিনি অবসরের বয়সের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। সামরিক মহলে ধারণা—তিনি খুব শিগগিরই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
















