চার জেলায় একই দিনে প্রাণহানি; নিহতদের মধ্যে আছেন কৃষক, মাদ্রাসাছাত্র ও ফেরির যাত্রী
৬ অক্টোবর ২০২৫, ঢাকা
বাংলাদেশে রবিবার (৫ অক্টোবর) বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুই নারী, এক শিশু, দুই কৃষক এবং এক স্কুলছাত্র। ঘটনাগুলো ঘটেছে কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ ও নারায়ণগঞ্জে।
কুমিল্লা (হোমনা)
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নে ফেরির ঘাট এলাকায় বজ্রপাতে তিনজন নিহত হন। বিকেল পৌনে তিনটার দিকে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে কয়েকজন মানুষ উজানচর–ঘাগুটিয়া ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সেই সময় বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান দুই নারী ও এক পুরুষ।
নিহতদের পরিচয় জাকিয়া বেগম (৩৫), মমতাজ বেগম (৩০) — দুজনই নালা দক্ষিণ গ্রামের বাসিন্দা — এবং খোড়ে দাউদপুর গ্রামের অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি (প্রায় ৪০)।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানিয়েছেন হোমনা থানার উপপরিদর্শক জীবন বিশ্বাস। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খেমালিকা চাকমা বলেন, প্রশাসন নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে।
কুড়িগ্রাম (নাগেশ্বরী)
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে বজ্রপাতে দুইজন মারা গেছেন। চর লুচনি গ্রামের সাহিবুর রহমান (৪৫) সকালে বাড়ির পাশে ঘাস কাটছিলেন, তখন বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুপুরের দিকে কালিকাপুর গ্রামের আট বছর বয়সী বাবলু মিয়া মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে বজ্রপাতে প্রাণ হারান। নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে ঘটনাগুলো নিশ্চিত করেছেন।
ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন আর্মুখী গ্রামের শিমুল বিশ্বাস (৩৮) এবং শেখড়া গ্রামের হুরমত আলী (৫৫)। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া জানান, দুই ঘটনাই পৃথক সময়ে ঘটে এবং উভয়ই বজ্রপাতের আঘাতে মারা যান।
নারায়ণগঞ্জ (আড়াইহাজার)
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার উলুকান্দি গ্রামে ১৩ বছরের স্কুলছাত্র মো. ওয়াসিম বজ্রপাতে মারা যায়। বৃষ্টির সময় সে গোয়ালঘরে আশ্রয় নিয়েছিল, কিন্তু বাইরে বেরোতেই বজ্রপাতের শিকার হয় বলে জানিয়েছেন তার চাচা জহিরুল ইসলাম। ওয়াসিম স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। আড়াইহাজার থানার ওসি খোন্দকার নাসির উদ্দিন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

















