আইনজীবীর দাবি—‘জয় বাংলা’ স্লোগান ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার পর থেকে পারিবারিক সাক্ষাৎ ও ফোন সুবিধা সীমিত
ট্রাইব্যুনাল জানাল—জেল কোড অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাজিরা শেষে প্রিজনভ্যানে ফেরার পথে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং জাতীয় সংগীত গাওয়ার পর সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ওপর কারাগারে দেওয়া কিছু বিশেষ সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে—এ অভিযোগ তুলেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. লিটন আহমেদ।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানিতে এ বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।
কোন অভিযোগ তুললেন পলকের আইনজীবী?
ব্যারিস্টার এম. লিটন আহমেদের দাবি—
- পলক আগে নিয়মিত পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ফোনে কথা বলার সুযোগ পেতেন।
- কিন্তু প্রিজনভ্যানে জাতীয় সংগীত গাওয়া ও স্লোগান দেওয়ার পর থেকে এই সুবিধাগুলো সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বিষয়টি ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়েছে এবং কারা কর্তৃপক্ষ যেন জেল কোড মেনে চলেন, সে বিষয়ে আদালত আদেশ দেবেন।
কারা কর্তৃপক্ষ কী করতে পারে?
বিদ্যমান প্রিজন্স অ্যাক্ট ১৮৯৪ অনুযায়ী—
- বন্দি আইনজীবী, পরিবার ও অনুমোদিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন।
- তবে কারাগারের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে মনে করলে কর্তৃপক্ষ সাক্ষাতের সময় স্থগিত, বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে।
- শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে কারা বিধি অনুসারে শাস্তি দেওয়া যায়, যা হতে পারে—
- ডিভিশন সুবিধা বাতিল/হ্রাস
- একাকী কারাবাস
- অতিরিক্ত কাজ
- খাদ্য/পোশাক সুবিধায় পরিবর্তন
শাস্তিমূলক ব্যবস্থার লক্ষ্য—কারাগারে নিয়মানুবর্তিতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।
ট্রাইব্যুনালের অবস্থান
শুনানিতে আদালত জানায়—বন্দিদের সুবিধা ও শাস্তি কারা কর্তৃপক্ষ জেল কোড অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। আদালত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবে।
















