ঢাকা, ৬ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো একটি নতুন, বৃহত্তর জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বাম জোট ও দলগুলোর মধ্যে একীভূত হওয়ার আলোচনা এগোচ্ছে ইতিবাচকভাবে। অক্টোবর মাসের মধ্যেই নতুন জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ
আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি, এবং সেই লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন থেকেই নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ, সংগঠন পুনর্গঠন এবং সম্ভাব্য জোট নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত।
বাম দলগুলোও এর বাইরে নয়—তারা বিদ্যমান বাম জোটগুলোর ঐক্য জোরদার করে একটি বৃহত্তর প্রগতিশীল রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের পরিকল্পনা করছে।
নেতৃত্বে বাম গণতান্ত্রিক জোট (এলডিএ)
এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে বাম গণতান্ত্রিক জোট (এলডিএ), যেখানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল–বাসদ প্রধান ভূমিকা রাখছে।

আলোচনা চলছে বাংলাদেশ জাসদ, গণফোরাম, এবং ঐক্য ন্যাপ–কে এই নতুন জোটে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে। একই সঙ্গে অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট লেফট ফ্রন্ট–এর সঙ্গেও একীভূত হওয়ার কথা আলোচনা হচ্ছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এসব দলের নেতারা একাধিক আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি গণতন্ত্র মঞ্চসহ অন্যান্য প্রগতিশীল দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে।
“আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে”
বাম দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনী জোট গঠনের আলোচনা এখন পর্যন্ত ইতিবাচক। এলডিএর বাইরে থাকা দলগুলো—যেমন বাংলাদেশ জাসদ, গণফোরাম, ঐক্য ন্যাপ এবং অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট লেফট ফ্রন্ট—প্রস্তাবের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।
অক্টোবর মাসের মধ্যেই নতুন জোট গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের বাইরেও থাকবে জোটের ভূমিকা
এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে ৫ অক্টোবর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আহ্বান করেছে এলডিএ, যেখানে জোট গঠনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
নেতারা বলছেন, নতুন এই জোট শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, বরং জনজীবনের সমস্যা, অর্থনৈতিক সংকট ও জাতীয় ইস্যুগুলোতেও ভূমিকা রাখতে চায়।
দলের নেতাদের বক্তব্য
বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক ও এলডিএর সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন,
“আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। এর জন্য অন্যান্য বাম ও গণতান্ত্রিক দলগুলোকে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও জানান, “অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট লেফট ফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাসদ, গণফোরাম ও ঐক্য ন্যাপের সঙ্গে আমাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। আমরা গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি। তারা রাজি হলে একটি বৃহত্তর জোট গঠন সম্ভব।”
বাংলাদেশ জাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানও নিশ্চিত করেছেন যে সিপিবি, বাসদ, গণফোরাম ও ঐক্য ন্যাপের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
“জাতীয় নির্বাচনের আগে বাম, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল দলগুলোর একটি বৃহত্তর জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। অক্টোবরের মধ্যেই আমরা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারব বলে আশা করছি,” — তিনি বলেন।
গণতন্ত্র মঞ্চের অবস্থান
গণতন্ত্র মঞ্চ, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে যৌথ আন্দোলন করে আসছে, তারাও বাম দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে নতুন জোটে যোগদানের সম্ভাবনা যাচাই করতে।
গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন,
“আমরা বিএনপি ও বাম দল—উভয়ের সঙ্গেই আলোচনা করছি। দেশের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও দেশপ্রেমিক শক্তিগুলোর একটি বৃহত্তর ঐক্য গঠনের সম্ভাবনা যাচাই করছি।”
তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি শিগগিরই পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি গণতন্ত্র মঞ্চ বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির কোনো চুক্তিতে পৌঁছায়, তবে তাদের এই বাম জোটে যুক্ত হওয়া কঠিন হতে পারে।
তবুও, অক্টোবর জুড়ে আলোচনা চলবে—কে কোন জোটে থাকবে এবং নির্বাচনে কোন প্ল্যাটফর্মে অংশ নেবে, তার চূড়ান্ত রূপরেখা তখনই নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন।
















