হারিয়ে যাওয়া ছোট ছেলেকে খুঁজে না পাওয়ার গভীর বেদনা বুকে নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান। গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই গুণী অভিনেত্রী। গত ১১ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ার নিরিবিলি স্বপ্ন বিলাশ থেকে তাঁর ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থার অবনতি হলে সাত দিন আগে তাঁকে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে নাসিমা খানের। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রে নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। ষাট থেকে আশির দশক পর্যন্ত তিনি নিয়মিত অভিনয় করেছেন বাংলা ও উর্দু ভাষার বহু চলচ্চিত্রে। বড় পর্দার পাশাপাশি নাটকেও তিনি ছিলেন সাবলীল। দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০১১ সালে ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ চলচ্চিত্রে তাঁকে শেষবারের মতো পর্দায় দেখা যায়।
অভিনেত্রীর মরদেহ বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তাঁর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান দেশে ফেরার পর আগামী ১৫ অক্টোবর মরহুমার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বরেণ্য অভিনেত্রী শাবানা। নাসিমা খানকে অত্যন্ত দক্ষ ও অমায়িক একজন শিল্পী উল্লেখ করে তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
























