দক্ষিণ আফ্রিকার আকাশ যেন ভোরের আলো ছুঁতেই রক্তের গন্ধে ভারী হয়ে উঠল। প্রিটোরিয়ার কাছাকাছি সোচলভিলি টাউনশিপের একটি বারে নির্বিচার গুলিবর্ষণে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছিল মাত্র তিন বছরের একটি শিশু। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিভীষিকাময় ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে, শহরের বাতাস এখনো কান্নার ভার বইছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশ সার্ভিসের মুখপাত্র আথলেন্দা ম্যাথে জানান, প্রিটোরিয়ার পশ্চিমে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের এক হোস্টেলের ভেতরে থাকা একটি অবৈধ বারে ২৫ জনকে গুলি করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল—তিন বছরের একটি ছেলে, ১২ বছরের একটি ছেলে এবং ১৬ বছরের একটি কিশোরী। ভোর প্রায় সাড়ে চারটার দিকে এই হামলা হয়, যখন একটি “অবৈধ শিবিন” বা লাইসেন্সবিহীন বারে কয়েকজন মানুষ বসে পান করছিলেন। সে সময় তিনজন অস্ত্রধারী কোনো কথা না বলে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর তারা পায় প্রায় দুই ঘণ্টা পরে। ইতোমধ্যে হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে, তবে এখনো হামলার কারণ স্পষ্ট নয়।
আফ্রিকার অন্যতম শিল্পোন্নত দেশ হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরে গভীর অপরাধ, সংঘবদ্ধ সহিংসতা ও রাজনৈতিক দুর্নীতির ভার বহন করছে। অস্ত্রের সহজলভ্যতা, গ্যাং কালচার এবং বেকারত্বের অন্ধকার ছায়া অনেক জীবনকে প্রতিদিন গ্রাস করছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর—এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৬৩ জন মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন দেশটিতে। অবৈধ মদের দোকান ও অননুমোদিত বারগুলোই প্রায়শই এই ধরনের গণগুলির মঞ্চে পরিণত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ মুখপাত্র।
“সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, অনেক সময় একেবারে নিরীহ মানুষও এই গুলির মধ্যে পড়ে যায়,”—বলেছেন তিনি।
এর আগেও এমন রক্তাক্ত দৃশ্য বারবার ফিরে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার জীবনে। অক্টোবরে জোহানেসবার্গে গ্যাং সংঘর্ষে দুই কিশোর প্রাণ হারায়। মে মাসে ডারবানে একটি ট্যাভার্নে আটজন গ্রাহক গুলিতে নিহত হন। গত বছর ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে একটি গ্রামে একই পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
দেশটির অনেক নাগরিকের কাছেই বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, তবে তার চেয়েও বেশি বেআইনি অস্ত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে ছায়ার ভেতর। আজ প্রিটোরিয়ার বাতাসে শুধু বারুদের গন্ধ নয়, ভাসছে হারিয়ে যাওয়া শৈশব, নিভে যাওয়া চোখ, আর বারবার ফিরে আসা এক নিষ্ঠুর প্রশ্ন—কবে থামবে এই রক্তপাত?
















