কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এক যুগান্তকারী প্রযুক্তি, যা সমৃদ্ধ দেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে এবং দরিদ্র রাষ্ট্রদের আরও পিছনে ফেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। “দ্য নেক্সট গ্রেট ডাইভার্জেন্স” শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, যা মঙ্গলবার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক দফতর থেকে প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনটি বলছে, প্রযুক্তির ক্রমবিকাশ ধনী ও দরিদ্র দেশের মধ্যে বিভাজন বাড়াতে পারে, যা দীর্ঘ চলমান বৈশ্বিক সমতা ও সহযোগিতার ধারাকে বিপর্যস্ত করতে পারে। দফতরের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ শেলকেন্স জানান, “গত ৫০ বছরে দেশগুলোর মধ্যে সমতা বাড়ার পথ প্রশস্ত হয়েছিল, কিন্তু এআই নতুনভাবে বৈষম্যকে উস্কে দিতে পারে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই শিল্প বিপ্লবের মতোই অসাধারণ সুযোগ তৈরি করতে পারে, আবার বিদ্যমান ফাঁকও আরও গভীর করতে পারে। প্রযুক্তির সুবিধা ও ক্ষতি সমানভাবে ছড়াবে না। ধনী দেশ যেমন ইতিমধ্যেই এআই থেকে লাভবান হচ্ছে, তেমনি দুর্বল সংযোগ, অনিয়মিত বিদ্যুৎ ও সীমিত প্রযুক্তি দক্ষতার কারণে অনেক দেশ পিছিয়ে থাকবে।
বিশেষভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৫৫ শতাংশের বেশি জনসংখ্যা এই অঞ্চলে বসবাস করছে এবং প্রযুক্তির এই ধারা এখানেই সবচেয়ে তীব্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই দূরবর্তী স্কুলের শিক্ষাকে উন্নত করতে, রোগ শনাক্তকরণ দ্রুত করতে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে ঋণ সুবিধা দিতে এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় সহায়তা করতে ইতিমধ্যেই অবদান রেখেছে।
প্রতিবেদনটি পূর্বাভাস দিচ্ছে, এআই প্রযুক্তি এশিয়ায় বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধিকে প্রায় ২ শতাংশ পয়েন্ট বাড়াতে পারে। আগামী দশকে আয়েসিয়ান অর্থনীতির জন্য প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত জিডিপি সম্ভব হতে পারে। তবে, এআই-এর সুফল সব দেশ সমানভাবে পাবে না, যা ধনীদের এবং দারিদ্র্যের ফাঁক আরও গভীর করবে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, “এআই আগামীতে আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারবে না। কত কিছু সৃষ্টি বা ধ্বংস হবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।” জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি উল্লেখ করেছে, শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তার প্রভাব নির্ধারণ করা উচিত মানুষদের দ্বারা, মেশিনের দ্বারা নয়।
এআই যেমন সম্ভাবনার সাগর, তেমনি এর ছায়াও বিদ্যমান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নীতি নির্ধারণে সচেতন না হলে নারীদের ও যুবকদের হাজার হাজার চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মানবসভ্যতা এখন প্রযুক্তির স্রোতের মধ্যে নির্ভরশীল অবস্থায়, এবং বিশ্বের মানুষকেই বেছে নিতে হবে, কোন প্রযুক্তি তাদের কল্যাণে কাজে লাগবে এবং কোনটা নয়।
















