জামায়াত আমিরের অভিযোগ—চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ক্যুর চেষ্টা চলছে; ৫ আগস্টের মতো গণবিপ্লবের ইঙ্গিতও দিলেন তিনি।
খুলনায় ৮ দলের সমাবেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতায় না থেকেও অনেকেই ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন ও চাঁদাবাজি বাড়াচ্ছেন। তিনি ৫ আগস্টের মতো গণবিপ্লবেরও ইঙ্গিত দেন।
খুলনায় আন্দোলনরত ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশে ক্ষমতার বাইরে থেকেও অনেকে ‘ক্ষমতার দাপট’ দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ না হলে জনগণ আর তরুণ সমাজ তা ক্ষমা করবে না; পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে “প্রয়োজনে আরেকটি ৫ আগস্টের” মতো গণবিপ্লব দেখা যেতে পারে।
সোমবার বিকেলে শিববাড়ী বাবরী চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রশাসনিক ক্যু করার চেষ্টা চলছে, আর কিছু গোষ্ঠী ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য “ছলে-বলে-কৌশলে ষড়যন্ত্রের জাল” বুনছে।
“চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে জনগণ রেহাই দেবে না”
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের আন্দোলন ও পরিবর্তনের পরই একটি গোষ্ঠী সুযোগ বুঝে জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। “আজ চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্যে সমাজ অতিষ্ঠ”—উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পর্যন্ত কেউই নিরাপদ নন।
তিনি দাবি করেন, ইসলামী দলের নামে কোনো চাঁদাবাজির দায় নেই এবং আন্দোলনের অজুহাতে যারা দাপট দেখাচ্ছেন তারা জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গ করছেন।
৫ আগস্টের বিপ্লবের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত
হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন,
“যদি কেউ চোরাগলিতে হাঁটার চিন্তা করেন, প্রয়োজনে আরেকটা ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। সেই বিপ্লবই ফ্যাসিবাদকে রুখে দেবে।”
শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের বিভিন্ন সরকারের দুর্নীতি ও বৈষম্য বাংলাদেশকে বহুবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অপদিকে দাঁড় করিয়েছে, এবং সেই ব্যর্থতার দায় জনগণ ভুলে যায়নি।
৭২-এর সংবিধান প্রসঙ্গে সমালোচনা
সমাবেশে তিনি ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনর্বহালের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন,
“এই অবস্থান কার্যত শহীদ জিয়াউর রহমানের বিপক্ষে যাওয়া।”
তার দাবি, বেগম খালেদা জিয়াও কখনো ৭২-এর সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেননি।
তরুণ ভোটারদের প্রতি বার্তা
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা তরুণরা আর যেন ভোটাধিকার হাইজ্যাক হতে না দেয়।
“তোমাদের ভোট রক্ষা করতে আমরাও যুবকের মতো লড়ব”— মন্তব্য করেন তিনি।
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক
তিনি জানান, ৮ দলের নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ই তাদের লক্ষ্য। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, ন্যায়বিচার, সমতাভিত্তিক অর্থনীতি ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা, বিডিপিসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
















