নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে আইন পাসকে অনুচিত বলছে মির্জা ফখরুল
জাতীয় নির্বাচনের আগে পুলিশ কমিশন ও এনজিও আইন পাসের উদ্যোগে সরকারের ভিন্ন উদ্দেশ্য দেখছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরিবর্তন গণতান্ত্রিক উত্তরণ ব্যাহত করতে পারে।
জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে পুলিশ কমিশন আইন ও এনজিও-বিষয়ক আইন পাসের সরকারি উদ্যোগে ‘ভিন্ন উদ্দেশ্য’ দেখেছে বিএনপি। শুক্রবার এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এমন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি দাবি করেন, সরকারের এই উদ্যোগ জনসমর্থন ছাড়া আইন প্রণয়নের মাধ্যমে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণের ইঙ্গিত দেয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, “বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জেনেছি, সরকার দ্রুত দুটি আইন—সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন এবং এনজিও আইন—পাস করাতে চাইছে। নির্বাচনের আগে এমন আইন পাসের পেছনে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে বলেই আমরা মনে করি।”
গত বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় খাতগুলোর সংস্কারে উদ্যোগ নেয়, যার অংশ ছিল পুলিশ সংস্কার। পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে পুলিশের কাঠামো ও ভূমিকা নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় আলোচনা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি জুলাই জাতীয় সনদে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এতে ৩০টি দল ও জোটের সম্মতি পাওয়া যায়।
বর্তমান সরকার জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে যে সরকার পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করেছে; টিআইবি খসড়াটি সংশোধনেরও আহ্বান জানিয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, “জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাস করা সমীচীন নয়। এই দুই আইন পরবর্তী জাতীয় সংসদে আলোচনা ও যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রণয়ন করাই যুক্তিযুক্ত হবে।” তিনি সরকারকে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
















