বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে, সম্ভাব্য তারিখ ৪–১০ ডিসেম্বর। অন্যদিকে বড় দুর্যোগে উদ্ধার সরঞ্জামের অর্ধেক অচল হয়ে পড়ায় শঙ্কা বাড়ছে। জুলাই সনদের অস্পষ্টতা তুলে ধরে এনসিপি এখনও স্বাক্ষর করেনি। সমগ্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন এক অস্থিরতা ও প্রত্যাশার মিশ্র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ হাজারো ভবন; উদ্ধার সরঞ্জামের অর্ধেক অচল। জুলাই সনদের অস্পষ্টতা নিয়ে এনসিপির আপত্তি—এদিকে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ৪–১০ ডিসেম্বরের যেকোনো দিন ঘোষণা হতে পারে।
দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আজ সবচেয়ে আলোচিত দুটি বিষয়—আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে উন্মোচিত অবকাঠামোগত দুর্বলতা।
প্রথমেই নির্বাচন কমিশন—সূত্র বলছে, ৪ থেকে ১০ ডিসেম্বরের যেকোনো দিন ঘোষিত হতে পারে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল। কমিশন পর্যবেক্ষক সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একের পর এক সমন্বয় সভা করছে। একইসঙ্গে প্রস্তুত হচ্ছে গণভোটের বিধিমালা, যেখানে ব্যালটের রং, ভোটগ্রহণ ও গণনার নিয়ম নির্ধারিত হবে।
এদিকে জুলাই সনদ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি। তাদের অভিযোগ, গণভোটের প্রশ্নপত্রে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা পরিষ্কার নয়, নোট অব ডিসেন্ট রাখা যাবে কি না—এতেও স্পষ্টতা নেই। তাই ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত তারা স্বাক্ষর করছে না।
একই দিনে দেশজুড়ে আলোচনায় আরও এক গুরুতর বিষয়—উদ্ধার সরঞ্জাম সংকট। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—গত ১৯ বছরে কেনা সরঞ্জামের অর্ধেকই অচল বা মেয়াদোত্তীর্ণ। স্প্রেডার, কংক্রিট কাটার, ব্রিদিং অ্যাপারেটাস, ক্রেনসহ শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী।
দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন—সরঞ্জামের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় ঘাটতি প্রশিক্ষিত জনবলে, এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে সরঞ্জাম সংরক্ষণ ও কমিউনিটি পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে দুই বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়াও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঢাকায় ৮.৫ লাখ ভবন বড় ভূমিকম্পে ধসে পড়তে পারে—এমন সতর্ক বার্তা পুনরায় সামনে এসেছে।
দেশের সামনে তাই একদিকে নির্বাচন ও গণভোট—অন্যদিকে দুর্যোগ প্রস্তুতির কঠিন বাস্তবতা—দুটি বিষয়ই এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
















