যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) দীর্ঘ তদন্তে উঠে এসেছে, মাত্র একটি ঢিলা বৈদ্যুতিক তারই বাল্টিমোরের ফ্রান্সিস স্কট কি ব্রিজ ধসের জন্য দায়ী ছিল। গত বছর ৩০০ মিটার দীর্ঘ কার্গো জাহাজ ‘দালি’ সেতুটিতে ধাক্কা দিলে এতে ছয়জন সড়ক নির্মাণকর্মী নিহত হন।
এনটিএসবি জানায়, ২০২৪ সালের ২৬ মার্চ জাহাজটির ওই ত্রুটিপূর্ণ তারের কারণে পরপর দুটি ব্ল্যাকআউট হয়। এতে জাহাজের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা—প্রপালশন ও স্টিয়ারিং—একেবারেই অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে দালি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।
সেতু ধসের ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে, কারণ বন্দর এলাকার ট্রাফিক পর্যবেক্ষণের জন্য স্থাপিত একটি ক্যামেরা পুরো ঘটনাটি সরাসরি ধারণ করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শত শত মিটার দীর্ঘ সেতুর অংশ ভেঙে পড়ে নদীতে।
এনটিএসবি চেয়ার জেনিফার হোমেন্ডি বলেন, বিশাল জাহাজটির ক্ষুদ্র ত্রুটি শনাক্ত করতে তদন্তকারীদের মাসব্যাপী কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “প্রায় এক হাজার ফুট দীর্ঘ দালি জাহাজে রয়েছে মাইলের পর মাইল তার। একটি তার খুঁজে বের করা ছিল যেন আইফেল টাওয়ারে একটি আলগা রিভেট খোঁজার মতো।”
তদন্তে আরও জানা যায়, দুর্ঘটনার আগে জাহাজের ক্রুরা চেষ্টা করেও সেতু এড়িয়ে যেতে পারেনি; বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে এনটিএসবি বলছে, জাহাজের পাইলটরা দ্রুত ঘটনাটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানানোয় সেতুর যান চলাচল তৎক্ষণাৎ বন্ধ করা সম্ভব হয়।
সে সময় সেতুর ওপর সাতজন কর্মী ছিল; তাদের মধ্যে ছয়জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
শিপিং চ্যানেল চলতি বছরের জুনে পুনরায় চালু হলেও, মেরিল্যান্ড পরিবহন বোর্ড জানিয়েছে—সেতুটির পুনর্নির্মাণে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে এবং ব্যয় হবে ৪.৩ থেকে ৫.২ বিলিয়ন ডলার।
















