চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর ‘অপতৎপরতার’ প্রতিবাদে চাকসুর বিক্ষোভ মিছিল
চট্টগ্রাম, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ — নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ও তাদের সহযোগীদের “অপতৎপরতা” এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়কে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু)। বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন উত্তাপ যোগ করেছে।
চাকসুর নেতারা চাকসু ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ শুরু করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ঘুরে গোলচত্বরে এসে কর্মসূচি শেষ করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোর সমালোচনা করেন।
চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন,
“নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর কার্যক্রম এখনও ক্যাম্পাসে দেখা যাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা সুশীল সমাজের জন্য লজ্জাজনক।
তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক–কর্মকর্তা পূর্বে “জুলাই ঘটনার সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় সমর্থন করেছিলেন,” এবং বর্তমানে তারা পুনরায় “একই শক্তির প্রতিনিধিত্ব করছেন।”
রনি আরও বলেন,
“আমরা চাই সবকিছু আইনি প্রক্রিয়ায় হোক। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে রায়ের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি।”
“ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে ব্যানার টানিয়েছে” – অভিযোগ চাকসুর নেতাদের
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন,
“আমাদের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান হবে না। কিন্তু আমরা দেখছি তারা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন,
“চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ব্যানার টানিয়েছে। তারা যদি আবার ক্যাম্পাসে মুখ দেখাতে চায়, বিপ্লবীরা চুপ করে থাকবে না।”
ইসহাক দাবি করেন, “আগস্টে শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপর মিছিল করা ব্যক্তিরা এখনও চাকরিতে আছেন,এটি জাতির জন্য লজ্জাজনক।” তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে
পর্যবেক্ষকদের মতে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার আরেকটি প্রকাশ। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল, অতীত ঘটনাবলী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচার সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।
মিছিলে চাকসুর বিভিন্ন বিভাগের সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
















