মরক্কোর আসন্ন আইনসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির উন্নয়ননীতিতে বড় শহর ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলনির্ভরতা কমিয়ে গ্রাম, পাহাড়ি এলাকা, ছোট শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের উন্নয়নে জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অবকাঠামো, শিল্প, বন্দর, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় মরক্কো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করলেও সব অঞ্চলের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুযোগ সমানভাবে নিশ্চিত হয়নি। শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, ডিজিটাল সুবিধা ও সরকারি সেবায় শহর ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে।
পরবর্তী সরকারকে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ কিংবা বড় প্রকল্পের সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন না করে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের বৈষম্য কতটা কমানো যাচ্ছে, তার ভিত্তিতে মূল্যায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ জন্য অঞ্চলভিত্তিক প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি অর্থ বরাদ্দ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগ ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছোট ও মাঝারি শহরগুলোকে আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি সেবা পৌঁছাতে অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলেও বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সম্পদ, দক্ষতা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয়ভাবে উন্নয়নের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল যোগাযোগকে আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দূরবর্তী এলাকায় অনলাইন শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা ও ব্যবসার সুযোগ বাড়ানো গেলে ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সংস্কৃতি ও ভাষার স্বীকৃতিকেও আঞ্চলিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে আমাজিঘ ভাষা ও সংস্কৃতির সাংবিধানিক স্বীকৃতিকে শিক্ষা, প্রশাসন, চিকিৎসা ও সরকারি সেবায় আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্লেষণের মূল বক্তব্য হলো, দেশের সব অঞ্চলকে একই রকম করে তোলা নয়; বরং প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে নাগরিকদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত উন্নয়ননীতির লক্ষ্য। মানুষের জন্মস্থান বা বসবাসের এলাকা যেন তার শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও জীবনমানের সম্ভাবনাকে অতিরিক্তভাবে নির্ধারণ না করে, সেটিই হওয়া উচিত ভবিষ্যৎ নীতির প্রধান লক্ষ্য।
মরক্কোর পরবর্তী সরকারকে তাই কেন্দ্রনির্ভর উন্নয়ন থেকে সরে এসে শক্তিশালী জাতীয় রাষ্ট্রের পাশাপাশি সক্ষম অঞ্চল, গতিশীল ছোট শহর, উন্নত গ্রামীণ এলাকা এবং সমান সুযোগভিত্তিক নাগরিক সমাজ গড়ে তোলার নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
















