১২ নভেম্বর ২০২৫,
বাংলাদেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক তিনটি ককটেল হামলার ঘটনায়, যেগুলো রাজধানী ঢাকায় কয়েকটি চার্চ ও একটি ক্যাথলিক স্কুলকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। যদিও এ হামলায় কেউ আহত হয়নি, তবে পুলিশ বলছে ঘটনাগুলো ছিল “স্পষ্টভাবে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত।”
ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মোহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন,
“আমরা তদন্ত করে দেখছি এই ঘটনাগুলো পরস্পর–সংশ্লিষ্ট কিনা। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এগুলো মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই ঘটানো হয়েছে।”
বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে খ্রিস্টানদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি বা কেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করা হয়েছে, সে ব্যাপারেও কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
রাজধানীর প্রাচীন চার্চে প্রথম বিস্ফোরণ
প্রথম হামলাটি ঘটে ৮ অক্টোবর, ঢাকার ঐতিহাসিক হোলি রোজারি ক্যাথলিক চার্চে, যা ১৭ শতকে পর্তুগিজ মিশনারিরা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপর শুক্রবার রাতভর হামলাকারীরা আরও দুটি ক্যাথলিক স্থানে—সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রাল এবং সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ককটেল নিক্ষেপ করে।
বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও জানান,
“সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রালের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে, তবে পরদিন প্রায় ৫০০ মানুষ উপাসনায় অংশ নেন। এতে বোঝা যায়, ভয় নয়, বরং ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে এসে ক্যাথেড্রালের সামনে থেকে স্কুলের প্রাঙ্গণে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যায়।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক
সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ব্রাদার চন্দন বেনেডিক্ট গোমেস বলেন,
“হামলার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু পরদিন ক্লাস স্বাভাবিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়।”
রাজনৈতিক অস্থিরতার পটভূমিতে হামলা
বাংলাদেশে গত বছর সহিংস আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকে দেশটি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে আসন্ন ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস একাধিকবার আশ্বস্ত করেছেন যে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হামলার কারণে উদ্বেগ বাড়ছে।
৫ নভেম্বর থেকে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেও চট্টগ্রামে বিএনপির এক সমাবেশে গুলি চালানোর ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের আন্দোলনের সময় লুট হওয়া ১,৩০০টিরও বেশি অস্ত্র ফেরত দিতে আত্মসমর্পণকারীদের জন্য নগদ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে চার্চের সদস্যদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ স্পষ্টভাবে বেড়ে গেছে।
“চার্চে যাওয়ার সময় এখন এক ধরনের অজানা আতঙ্ক কাজ করে,”
বলেন ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ খ্রিস্টান, যিনি নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
















