আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার আজ অভূতপূর্ব রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে। তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন এখন রাজপথ দখল করে নিয়েছে। হাজারো মানুষ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনার পদত্যাগের দাবিতে দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছে।

সংকটের সূত্রপাত
কয়েকদিন আগে বিদ্যুৎ ও পানির মারাত্মক সংকট থেকে অসন্তোষ শুরু হয়। আন্দোলন দ্রুত রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়, আর এর চাপেই গত সোমবার প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা সরকার ভেঙে দেন। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি শান্ত না হয়ে উল্টো উত্তেজনা বেড়েছে।
রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত সপ্তাহের সহিংসতায় অন্তত ২২ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। যদিও সরকার এই সংখ্যা মানতে নারাজ।
উত্তরের শহর আন্তসিরানানাতে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল— “রাজোয়েলিনা সরে যাও”, “প্রেসিডেন্ট হত্যাকারী”। একইসঙ্গে দক্ষিণের তোলিয়ারা ও উত্তরের মাহাজাঙ্গায়ও গণবিক্ষোভ হয়। আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, যাদের অনেকেই ‘জেন-জি আন্দোলন’ নামে এই লড়াইকে অভিহিত করছে।

মানবাধিকার সংগঠনের নিন্দা
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী “অবৈধ ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ” করেছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ছয়টি বিদেশি দূতাবাস এক যৌথ বিবৃতিতে সব পক্ষকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, সঙ্কট আরও ঘনীভূত হলে দেশটি অচল হয়ে পড়তে পারে।
রাজোয়েলিনার রাজনৈতিক যাত্রা
২০০৯ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন রাজোয়েলিনা। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি, তবে ২০১৮ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে বিরোধীরা নির্বাচন বর্জন করলে তিনি আবারও ক্ষমতায় আসেন।
দরিদ্রতার বাস্তব চিত্র
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও মাদাগাস্কার বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ। প্রায় ৭৫% মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। দুর্নীতির সূচকে দেশটির অবস্থান ১৮০ দেশের মধ্যে ১৪০তম।
বিদ্যুৎ–পানি সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন প্রেসিডেন্টের পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন প্রমাণ করছে, মাদাগাস্কারের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আর সহ্য করতে রাজি নয়। আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে, আর প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনার সামনে এখন কেবল দুই পথ— সংলাপ নাকি পদত্যাগ।
















