আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) ইসরায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, আটক অধিকাংশ চিকিৎসাকর্মীকে কোনো সুস্পষ্ট অভিযোগ ছাড়াই অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়েছে এবং তাদের প্রতি আচরণে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
এমএসএফ বিশেষভাবে গাজার উত্তরাঞ্চলের কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুসাম আবু সাফিয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে আটক থাকা এই চিকিৎসককে একাকী কারাবন্দি রাখা হয়েছে এবং নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তার আইনজীবীও জানিয়েছেন, ডা. আবু সাফিয়ার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং তার ওপর নিয়মিত নির্যাতনের লক্ষণ দেখা গেছে।
ইসরায়েলভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস–ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ৫০ জন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মী, যার মধ্যে ১৫ জন চিকিৎসক রয়েছেন, ইসরায়েলের কারাগারে আটক আছেন। তাদের মুক্তির দাবিতে সংগঠনটি ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে।
হেলথকেয়ার ওয়ার্কার্স ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪৪৬ জন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ছয়জন আটক অবস্থায় মারা গেছেন বলে সংস্থাটির দাবি।
এমএসএফ বলেছে, আটক সব স্বাস্থ্যকর্মীকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানবিক পরিবেশ এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। সংস্থাটি আরও অভিযোগ করেছে, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নেতাদের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এর আগে চলতি মাসে জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত কমিশন এবং স্বেচ্ছাচারী আটকবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপও ডা. হুসাম আবু সাফিয়াসহ আটক সব চিকিৎসাকর্মীর মুক্তির আহ্বান জানিয়েছিল। ইসরায়েল তাকে বিচার ছাড়াই ‘অবৈধ যোদ্ধা’ হিসেবে আটক রেখেছে।
















