আগামী সংসদ নির্বাচনে ৬৭% ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ: অবাধ ভোটের জন্য বিচারিক ক্ষমতা চাইল সেনাবাহিনী
ঢাকা, ১০ নভেম্বর ২০২৫: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের ৬৭ শতাংশকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮ হাজার ৬৬৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ হাজার ২২৬টি ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’।
গত ২০ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রাক্–প্রস্তুতিমূলক বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা আজ রোববার (৯ নভেম্বর) অনুমোদন করা হয়।
বিভিন্ন বাহিনীর শঙ্কা ও ঝুঁকি
কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ইসির ওই বৈঠকে বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে নির্বাচনে বড় ধরনের শঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়:
- সংঘাতের আশঙ্কা: কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, ভোট প্রদানে বাধা দেওয়া, রাজনৈতিক দলের ওপর হামলা এবং বসতবাড়িতে হামলা বা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
- অবৈধ অস্ত্রের জোগান: এসবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনকালে অবৈধ অস্ত্রের জোগান আসতে পারে। অবৈধ অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
- সাইবার ঝুঁকি: সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোশ্যাল মিডিয়া ও এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার করে নির্বাচনে গুজব ছড়ানো হতে পারে। এ ধরনের অনেক কনটেন্ট ইতিমধ্যে শনাক্ত করে র্যাবের সাইবার ইউনিট ব্যবস্থা নিচ্ছে।
সেনাবাহিনীর প্রস্তাব ও প্রস্তুতির দিক:
বৈঠকে সেনাবাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি নির্বাচনে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব পেশ করেন:
- বিচারিক ক্ষমতা: সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হলে তারা নির্বাচনে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।
- ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি: প্রয়োজন অনুযায়ী ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ও নির্বাচনী মালামালের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
- ড্রোন ব্যবহার: নির্বাচনী কাজের জন্য সেনাবাহিনীকে ড্রোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
- অভিযান: চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখা যেতে পারে।
- মোতায়েন: ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সারা দেশে ৬২টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন আছে। নির্বাচনের আগের তিন দিন, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন–পরবর্তী চার দিনসহ মোট আট দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখা যেতে পারে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আহ্বান
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।” তিনি আরও বলেন, কমিশনের একার পক্ষে এত বড় কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, এ জন্য সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
সিইসি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে অনেক প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে, তবে সমন্বয় এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে তা দূর করা সম্ভব হবে।
















