দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষ অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জানান, চুক্তির ফলে প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের টোল ছাড়াই জাহাজ চলাচল শুরু হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
পরবর্তীতে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উভয় দেশের মধ্যে চলমান শত্রুতার অবসান ঘটাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তির খবর প্রথমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার পর সব পক্ষ যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছে। এতে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক কার্যক্রমও বন্ধ হবে।
আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কারিগরি ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মধ্যে কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো চুক্তিটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ একাধিক দেশ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। তারা মনে করছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হলে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চুক্তির শর্তগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
















