প্রভাবশালী পাম্প মালিকদের কবজায় বরাদ্দ; সাধারণ পাম্প ও কৃষকরা বিপাকে
রাজশাহীর চার জেলায় (রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ) জ্বালানি তেল বরাদ্দের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মালিকানাধীন পাম্পগুলো রেকর্ড পরিমাণ তেল পেলেও সাধারণ পাম্প মালিকরা দিনের পর দিন বরাদ্দহীন থাকছেন। এর ফলে বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে সেচ ও কৃষিপণ্য পরিবহনে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
যুগান্তরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির বগুড়া জোন অফিস থেকে উত্তরাঞ্চলে তেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ডিপোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রভাবশালীরা মাসের ৩০ দিনই বরাদ্দ নিচ্ছেন, যেখানে সাধারণ পাম্পগুলো ১০ দিনে একবারও তেল পাচ্ছে না।
বরাদ্দে অনিয়মের চিত্র ও মূল অভিযুক্তরা:
- মেসার্স লতা ফিলিং স্টেশন (রাজশাহী): পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনিমুল হকের এই পাম্পটি গত এক মাসে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে। ২৮ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন ১৩,৫০০ লিটার করে তেল পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি ১২ ও ১৩ এপ্রিল রেকর্ড ভেঙে ১৮,০০০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
- গুল-গফুর পেট্রোলিয়াম: অ্যাসোসিয়েশনের ১ নম্বর সহ-সভাপতি মিজানুর আহমেদের এই পাম্পটিও ২৭ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে রেকর্ড বরাদ্দ পেয়েছে।
- রাজনৈতিক প্রভাব: বিএনপি নেতা লুৎফর রহমানের ‘রহমান অ্যান্ড কোং’ এবং তার ভাইয়ের ‘ন্যাশনাল পেট্রোলপাম্প’ তাদের নিজস্ব পরিবহন সংস্থা (দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলস) থাকার সুবাদে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও অকটেন পাচ্ছে।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর: চাঁপাইনবাবগঞ্জে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাশিদুল হাসানের দুটি পাম্প এবং নাটোরে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিমের পাম্প একইভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ করছে।
বৈষম্যের প্রভাব:
- কৃষি ও পরিবহন সংকট: সাধারণ পাম্প মালিকরা (যেমন: গোদাগাড়ীর এসআর ফিলিং স্টেশন বা পবার লিমন ফিলিং স্টেশন) জানিয়েছেন, তারা সপ্তাহে একবারও বরাদ্দ পাচ্ছেন না। বর্তমান বোরো মৌসুমের ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য কৃষকরা হন্যে হয়ে ডিজেল খুঁজলেও পাম্পে তেল নেই।
- আর্থিক লোকসান: ট্রাকভর্তি (১৩,৫০০ লিটার) তেল বরাদ্দ না পাওয়ায় পরিবহণ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। অনেক সময় মাত্র ৪,৫০০ লিটার তেলের জন্য ২০,০০০ টাকা ট্রাক ভাড়া গুনতে হচ্ছে, যা সাধারণ পাম্প মালিকদের লোকসানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: বরাদ্দ সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে পদ্মা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির বগুড়া জোনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, গত বছরের বিক্রয় রেকর্ড অনুযায়ী আনুপাতিক হারে তেল বণ্টন করা হচ্ছে। তবে বরাদ্দপত্রের বাস্তব চিত্র সাধারণ পাম্প মালিকদের অভিযোগের পক্ষেই সাক্ষ্য দিচ্ছে।














