সাত বছর পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী ১৮ নভেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন যুবরাজের দ্বিতীয় সফর, ২০১৭ সালের প্রথম সফরের আট বছর পর।
রয়টার্স জানিয়েছে, বৈঠকটি নভেম্বরের ১৮ তারিখেই অনুষ্ঠিত হবে, যা পরে হোয়াইট হাউসও নিশ্চিত করেছে। সফরটি এমন এক সময় হচ্ছে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
ট্রাম্প ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন করেন। তবে সৌদি আরব এখনো বলছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট রূপরেখা ছাড়া তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না।
রবিবার সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবও আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “যুবরাজের সফরের সময় কিছু স্বাক্ষর সংক্রান্ত আলোচনা চলছে, তবে বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত নয়।”
ব্রিটিশ দৈনিক ফাইনান্সিয়াল টাইমস দুই সপ্তাহ আগে জানিয়েছিল, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করা হচ্ছে এই সফরের সময়।
দীর্ঘ দশক ধরে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক গভীর, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রিয়াদ সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৪২ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল অস্ত্র বিক্রয় চুক্তি সম্পন্ন করে।
২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প সৌদি আরবকেই বেছে নিয়েছিলেন বিদেশ সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে। সে সময়ও বহুবিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি হয়, এবং ওই বছরই যুবরাজ সালমান যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন, হোয়াইট হাউসে বৈঠক ছাড়াও বিভিন্ন শহর পরিদর্শন করেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে, বিশেষ করে আব্রাহাম চুক্তি ও আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে।
















