বিশ্বব্যাপী হৃদরোগ এখনও অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতি বছর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এর সাথে অনেক কারণ জড়িত থাকলেও খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি বারবার উঠে আসে। মানুষ বছরের পর বছর ধরে প্রতিদিন যা খায়, তা হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা নির্ধারণ করে। ‘জার্নাল অফ কার্ডিওভাসকুলার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজিজ’-এ প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা যায় , প্রাণীজ প্রোটিন অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে হৃৎপিণ্ডের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোটা বিশ্বে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ‘জার্নাল অফ কার্ডিওভাসকুলার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজিজ’-এ প্রকাশিত একই গবেষণায় বলা হয়েছে, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন দীর্ঘমেয়াদে হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতাকে আরও ভালোভাবে সক্রিয় করে, যার একটি কারণ হলো এতে থাকা মাইক্রো এবং ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের মিশ্রণ। এই পুষ্টি উপাদানগুলো হৃৎপিণ্ডে আরও ভালোভাবে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।
ইন্ডিয়া টিভি’র ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শহুরে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তিত হচ্ছে। মাংস খাওয়ার পরিমাণ বাড়ছে। একই সময়ে, জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখনও প্রোটিনের জন্য ডাল এবং দুগ্ধজাত পণ্যের উপর নির্ভরশীল। মূল বিষয় হলো পুরোপুরি এক দিকে ঝুঁকে না পড়া। প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে দুই ধরনের খাবারে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। যদি কোনো একটি উৎস প্রাধান্য পেতে শুরু করে, তাহলে ধীরে ধীরে হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রাণীজ প্রোটিন সম্পূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে, যা শরীরের জন্য প্রয়োজন। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের পেশি গঠন এবং পুনরুদ্ধারে এটি বেশ কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু এর আরেকটি দিকও আছে। অনেক প্রাণীজ উৎসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকে। সময়ের সাথে সাথে, এটি হৃৎপিণ্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের ফ্যাট বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে, কারণ শরীর দীর্ঘমেয়াদে এই ফ্যাটগুলো আর হজম করতে পারে না। তাই এটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া ঠিক নয়। বরং এর উপর খুব বেশি নির্ভর না করাই ভালো।
উদ্ভিজ্জ প্রোটিন: কেন এটি হৃৎপিণ্ডের জন্য বেশি কার্যকর
উদ্ভিজ্জ প্রোটিন সাধারণত সহজে হজম হয় এবং শরীরে ভালোভাবে শোষিত হয়। প্রাণীজ উৎসের তুলনায়, এটি সার্বিকভাবে শক্তির মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এর একটি কারণ হলো এটি শরীরের ওপর ততটা চাপ সৃষ্টি করে না। এর কিছু অতিরিক্ত সুবিধাও রয়েছে। উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিনে ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এগুলো কোলেস্টেরল কমাতে এবং আরও সার্বিকভাবে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। তবে এরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। বেশিরভাগ উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে এককভাবে সম্পূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড শৃঙ্খল থাকে না। এর মানে হলো, আপনার একটি মিশ্রণের প্রয়োজন হয়। মোট কথা হলো, একটা উৎসের উপর নির্ভর না করে খাবারের ক্ষেত্রে দুই ধরনের উৎসের একটা ভারসাম্য রাখা উচিত।
ডাল, ছোলা, সয়াবিন, বাদাম- এগুলো সবই উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিনের শক্তিশালী উৎস যা বছরের পর বছর ধরে দৈনন্দিন খাবারের অংশ হয়ে আসছে। যখন অল্প পরিমাণে প্রাণীজ প্রোটিনের সাথে এসব যুক্ত করা হয়, তখন এগুলো শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ গ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে।
প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে ঘন ঘন লাল মাংস খাওয়ার পরিবর্তে ডাল, সয়া বা পনিরের মতো বিকল্প বেছে নিতে পারেন, যেগুলোতে অ্যামিনো অ্যাসিড এবং পুষ্টির একটি ভালো মিশ্রণ পাওয়া যায়। বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার খেলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পায়।
















